আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন মিয়ানমার

বিদেশ ডেস্ক
১৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৩৬আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৪৪

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) চলমান মিয়ানমারবিরোধী পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নেপিদো।  রোহিঙ্গা বিতাড়নকে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ বিবেচনা করে মিয়ানমারের বিচার শুরু করা যায় কিনা; সোমবার (৯ এপ্রিল) সে ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে আইসিসি-তে আবেদন করেন এর কৌঁসুলি ফাতাও বেনসুউদা। শুক্রবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকার এই পদক্ষেপকে ১৯৬৯ সালের জাতিসংঘের ভিয়েনা চুক্তি ও আইসিসি সনদের প্রস্তাবনার লঙ্ঘন আখ্যা দেয়। নেপিদোর পক্ষ থেকে ওই পদক্ষেপকে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা আখ্যা দেওয়া হয়।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়নের শিকার হয়েছে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে পুলিশ চেকপোস্টে সহিংসতার পর বহুদিন ধরে চালানো রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে। একে নিধনযজ্ঞ বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও। কাঠামোগত নিপীড়ন পরিচালনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা বিতাড়নের ঘটনাকে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ বিবেচনা করে মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনা যায় কিনা, সে ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা চান কৌঁসুলি ফাতাও বেনসুউদা। শুক্রবার মিয়ানমারের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রোহিঙ্গা বিতাড়নের অভিযোগ বিচারের নির্দেশনা চেয়ে আবেদনের খবরে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এখনও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সনদে স্বাক্ষর করেনি মিয়ানমার। মিয়ানমারের সরকারি বিবৃতিতে আইসিসি সনদকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, যেসব দেশ আইসিসি সনদে স্বাক্ষর করে ওই আদালতের বিচার ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে, সেসব দেশই কেবল এর বিচারের আওতায় আসবে। ভিয়েনা চুক্তির ব্যাপারেও একই অবস্থান ব্যক্ত করা হয় বিবৃতিতে। আইসিসি কৌঁসুলি বেনসুউদার পদক্ষেপকে ভিয়েনা চুক্তি ও আইসিসি সনদের লঙ্ঘন দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৬৯ সালের ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে যে দেশ এই অনুমোদন করবে না তাদের ওপর এই চুক্তি আরোপ করা যাবে না। বেনসুউদার ভূমিকার সমালোচনা করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পদদলিত করার চেষ্টা করছেন।

 

/জেজে/বিএ/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী