চাঁদপুরে দেড় মাসে ১২৮ জেলে আটক

Send
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:০২, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৬, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেব টাস্কফোর্সর অভিযানে আটক কারেন্ট জাল

চাঁদপুরে ইলিশ রক্ষার জন্য দুই মাস ধরে জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, পুলিশ ও মৎস্য অধিদফতরের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করছে। টাস্কফোর্স গত পহেলা মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ অভিযান চালিয়ে ১২৮ জেলেকে আটক করেছে। এর মধ্যে ১০৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ২২ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০১৮ এর অংশ হিসেবে গত পহেলা মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২৫২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৮ হাজার ৭১০ কেজি জাটকা, ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৫শ’ মিটার জাল ও ৫৮টি নৌকা জব্দসহ ১২৮ জেলেকে আটক করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৬ জন জেলেকে এক বছর, ১ জনের ৬ মাস, ২৬ জনের ১ মাস, ১ জনের ২ মাস, ১ জনের ১৫ দিন ও ১ জনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হাইমচর উপজেলার ২ জেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২০ জেলের কাছ থেকে ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, ‘জেলেরা এখন প্রায়ই আমাদের মুখোমুখি হচ্ছে। মাঝে মাঝেই জেলেরা আমাদের উপর আক্রমণ চালায়। আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তারপরও যেহেতু তারা গরীব মানুষ এ কারণে আমরা তা মানবিকভাবেই দেখছি। আমরাও বুঝি, তাদের রুটি-রুজির একমাত্র পথ এই নদী আর মাছ শিকার। কিন্তু জাটকা রক্ষায় সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে জেলেরাই লাভ হবে। তারাই বড় বড় মাছ ধরতে পারবে।’

টাস্কফোর্সর অভিযানে আটক জাটকা

তিনি আরও বলেন, ‘জেলেরা নদীতে নামার চেষ্টা করছে। আমরাও প্রটেকশন দেওয়ার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে সদর উপজেলার হানারচর, ইব্রাহিমপুর, আখনেরহাট, রাজরাজেশ্বর- এ জায়গাগুলো বেশি সেনসেটিভ। প্রতিদিন ৬টি টিম এসব এলাকার নদীতে  অভিযান চালাচ্ছে। হাইমচর ও মতলব উত্তরে ২টি টিম কাজ করছে।’

এ মৎস্য কর্মকর্তা জানান, এ সময় বেকার জেলেদের সরকারিভাবে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে রিকশা, ভ্যান, সেলাই মেশিন, ছাগল, গরু বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলে আইডি কার্ডধারী ৫১ হাজার ১৯০ জন জেলের মাঝে ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৪টন জাটকা আটক করা হয়েছে। এসব জাটকা ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কখনো এতিমাখানা কখনো লিল্লাহ বোডিং ও জেলখানায় বিতরণ ও কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। নৌকাগুলো নৌ-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

জেলা জাটকা সংরক্ষণ টাস্কফোর্সের সভাপতি ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।  জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ কাজ করছে। দিন রাত নদীতে অভিযান চলছে। আমি নিজেও অভিযানে গিয়েছি। যেটি দেখেছি কিছু লোক ছোট ছোট নৌকা নিয়ে নদীতে নামে। গভীর রাতে ৪০-৫০টি নৌকা একযোগে নদীতে মাছ ধরার চেষ্টা করে। আসলে ছোট মোবাইল টিম দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এরা চাঁদপুরের লোক না, বহিরাগত বলে শুনেছি। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আশাকরি, এবার জাটকা সংরক্ষণের অভয়াশ্রম সফল হবে। আগামীতে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে বড় ইলিশ পাবে।

উল্লেখ্য, জাটকা রক্ষা ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে আজ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশসহ প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের দায়ে মৎস্য আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন: আগুনে পুড়ে গেছে সাজেকের তিনটি হোটেল

 

/জেবি/

লাইভ

টপ