হলফনামায় অসত্য তথ্য দেইনি, ভোটেই ফয়সালা হবে: খালেক

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৩৭, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৩, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

তালুকদার আব্দুল খালেকখুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ‘আমি হলফনামায় কোনও অসত্য তথ্য দেইনি। আমি আয়কর দেই। কমিশনার থেকে সর্বশেষ সংসদ সদস্য নির্বাচন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আয়করের হিসাব দিয়ে এসেছি। সে মোতাবেক আমি আমার হলফনামায় সত্য তথ্য দিয়েছি। ফয়সালা জনগণের ভোটেই হবে।’

মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। নির্বাচনি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খালেকের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি জানান বিএনপির এই প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় চাওয়া তথ্যগুলোই সরবরাহ করা হয়েছে। আমি অনেক স্কুল-কলেজের সভাপতি হিসেবে আছি। সব দিতে হবে এমনটি নয়। লাভজনক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে হলফনামায় উল্লেখ থাকার কথা। যে প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে অভিযোগ তোলা হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমি কোনও প্রকার সুযোগ সুবিধা নেই না। মঞ্জু’র একটি মিথ্যা অভিযোগ সম্পর্কে জানার পরই এই প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করা হয়েছে।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার দেওয়া তথ্য সম্পর্কে আপনানা খোঁজ-খবর নিন, তারপর লেখেন। তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। বৈধ সম্পদের বিবরণী হলফনামায় দেওয়া হয়েছে।’ তিনি সব ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি কাজি আমিনুল হক, কাজী এনায়েত হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, মহানগর দফতর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, জেলা আওয়ামী লীগ দফতর সম্পাদক অ্যাড. ফরিদ আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ খান জবা, হাফেজ মো. শামীম, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মফিদুল ইসলাম টুটুলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। একশ্রেণির অসাধু ষড়যন্ত্রকারী আছে যারা আওয়ামী লীগের এই ঐক্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা ধরনের গুজব ও কুৎসা রটাচ্ছে। ওই চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং মিথ্যা গুজবের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দল এখন ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ধরে রেখে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে তালুকদার আব্দুল খালেককে বিজয়ী করে আনতে হবে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনাবাসীকে মিথ্যা বলে ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চাইছেন। ট্যাক্স ফ্রি গাড়িতে চড়লেও গাড়িটির মূল্য ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। গাড়ির ব্যাপারে তিনি মিথ্যা মূল্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছেন। মঞ্জুর ব্যবহৃত গাড়িটি নাকি পৌনে চার লাখ টাকা মূল্যের! এ অসত্য তথ্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করায় খুলনাবাসী লজ্জা পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মঞ্জু তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন মাত্র দুই লাখ টাকা। সে হিসাবে মাসিক আয় আসে প্রায় ১৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। যা একজন রিকশাচালকের চেয়েও কম আয়। তাহলে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দেড় কোটি টাকার গাড়িটি চলে কি বাতাসে চলে আর ড্রাইভারও কি হাওয়া খেয়ে গাড়ি চালান? নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাস করেন একটি আলিশান ভাড়া বাড়িতে। যে বাড়িটি মাসিক ভাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা। তাহলে তিনি কি বাড়ি ওয়ালাকে জিম্মি করে অথবা বিনা অর্থে বসবাস করেন?’

আরও পড়ুন- খালেকের মনোনয়নপত্র বাতিল চান মঞ্জু

 

 

/এফএস/

লাইভ

টপ