সিরাজগঞ্জে সেই ২ রোগীর পরিচয় শনাক্তে পিবিআই

Send
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৫৭, নভেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১২, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দুই রোগীর আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেন পিবিআই কর্মকর্তারাযমুনা পাড়ে পাউবোর বাঁধে ফেলে দেওয়া অজ্ঞাত সেই দুই নারী রোগীর নাম-পরিচয় শনাক্তে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া ও রওশন আলীর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের পিবিআইয়ের একটি দল বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জ আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল  হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের চতুর্থ তলায় আসেন। গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধে পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআই এ উদ্যোগ নিয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পিবিআইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. রওশন আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পিবিআইয়ের জেলা ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা হাসপাতালে এসে ওই দুই রোগীর আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছি। শিগগিরই স্ক্যান করে তা সদর দফতরে পাঠানো হবে। ২০০৭ সালে সারা দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় তাদের নাম-পরিচয়সহ আঙুলের ছাপ রেকর্ড করা থাকলে সেগুলোর সঙ্গে মিলে যেতে পারে। সেটি হলে তাদের নাম-পরিচয় জানা যাবে।’

এ সময়ে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ইনচার্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুর রব্বান তালুকদার, হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলাম ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. ফাহমিদা খাতুন তাদের সার্বিক সহায়তা করেন।

এদিকে, সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে এ আধুনিক হাসপাতালটির নতুন নামকরণের শুভ উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসার খবরে ওই দুই রোগীর প্রতি সদয় হন দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা। মেঝেতে থাকা ওই দুই রোগীর পেশাব-পায়খানা পরিষ্কার ও ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করে নতুন কাপড় পরিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন দুজনই বেশ প্রফুল্ল ছিলেন। এর পর সেভাবে যত্ন না নেওয়ায় বয়স্কজন ক্রমশ বেশ দুর্বল হয়ে পড়ছেন।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুর রব্বান তালুকদার ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. ফাহমিদা খাতুন এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বয়স্কজনকে দ্রুত অন্য কোনও বড় হাসপাতালে এবং অন্যজনকে মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ করা প্রয়োজন। 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর সরকারি হাসপাতালের বিছানা ও চাদরসহ যমুনার পাড়ে বাঁধে ফেলে দেওয়া হয় অসহায় ওই দুজন রোগীকে। গণমাধ্যমকর্মীদের খবরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে দুটি কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত শুরু হয়নি।

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ