বিএনপি নেতা শাহীন হত্যা: ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:২৪, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩২, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

মাহবুব আলম শাহীনবগুড়ার নিশিন্দারা উপশহর বাজার এলাকায় রবিবার রাতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে বিএনপি নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে নিহতের স্ত্রী আকতারা জাহান শিল্পী সদর থানায় এ মামলা করেন। এজাহারে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে। বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্বে দায়িত্বশীল এক নেতার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানা গেছে, আসামিদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, পরিবহণ ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধি। সদর থানার ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, তদন্তের স্বার্থে এখনই আসামিদের নাম প্রকাশ করা হবে না। এদিকে মামলার বাদী বলেন, পুলিশ নিষেধ করায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কারও নাম বলবেন না।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন বগুড়া সদরের ধরমপুর এলাকার আনিসুর রহমান তালুকদারের ছেলে। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি পরিবহণ ব্যবসা ও আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি প্রতি রাতে নিশিন্দারা উপশহর বাজারে আড্ডা দিতেন। রবিবার রাত ১০টার আগে তিনি তার প্রাইভেট কার নিয়ে উপশহর বাজারে আসেন। বিসমিল্লাহ চাউল আড়ৎ থেকে চাল কেনেন। চালগুলো প্রাইভেটকারে রেখে দোকানিকে জানান, তিনি মোবাইল ফোনে ফ্ল্যাক্সিলোড করবেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত ও দায়ের কোপ মেরে পালিয়ে যায়। সব দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা চলে যান। পথচারীরা তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও নেতাদের দায়ী করেন।

সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে শাহীনের মরদেহ শহরের ধরমপুর স্কুলপাড়ার বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকাল ৪টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরে নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের কাছে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বাদ আসর ধরমপুর খেলার মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে শাহীনের লাশ দাফন করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাডভোকেটস্ বার সমিতি থেকে দলমত নির্বিশেষে আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও ফুলকোর্ট রেফারেন্স পালন করেন। আইনজীবীরা অ্যাডভোকেট শাহীনের খুনিদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

বগুড়া সদর ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, ‘মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নিহত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনের স্ত্রী আকতারা জাহান শিল্পী ছয় জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্তের স্বার্থে ও বাদীর নিরাপত্তার স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। এজাহারে মোটর মালিক গ্রুপের কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে।’ এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আম্বার হোসেন জানান, ‘ন্যায়সঙ্গত তদন্ত হবে। এর আগে এই ঘটনায় সদ্য পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডলের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত সহায়ক টিম গঠন করা হয়েছে।’

ঘাতকদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিএনপির শোকর‍্যালি

বগুড়া সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিবহণ ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা বিএনপির চার দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শহরে নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোকর‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে প্রতিবাদ সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিচার দাবি করে বলেন, ‘শাহীনেরপ্রতিটি রক্তের ফোঁটার বদলা নেওয়া হবে।’

অন্যান্যের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন,  আলী আজগর হেনা, ফজলুল বারী বেলাল, লাভলী রহমান, এমআর ইসলাম স্বাধীন, তাহাউদ্দীন নাহিন, নাজমুল হুদা পপন, পরিমল চন্দ্র, খায়রুল বাশার, সিপার আল বখতিয়ার, আব্দুল বাছেদ, খাদেমুল ইসলাম, মাসুদ রানা, শাহাবুল আলম পিপলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিবহণ মালিক শ্রমিক যৌথ পরিষদের প্রতিবাদ সভা

শাহীন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে শহরতলির চারমাথায় পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সভাপতি শাহ্ আকতারুজ্জামান ডিউকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি আবদুল লতিফ মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী, কার্যকরী সভাপতি রফিকুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা কামরুল মোরশেদ আপেল, আন্ত:জেলা ট্রাক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মান্নান, মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা প্রশাসনের কাছে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এ ঘটনায় নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি না করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন- বিএনপি নেতা হত্যা: মোটর মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্বকে দায়ী করছে পরিবার

 

 

/এফএস/

লাইভ

টপ