রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: এখনও কান্না থামেনি দুই পা হারানো রেবেকার

Send
বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর
প্রকাশিত : ১০:৩২, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

রেবেকা খাতুন

সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ছয় বছর পার হলো আজ। সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের। তাদের মধ্যে একজন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই গ্রামের রেবেকা খাতুন। সেদিনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিনি হারিয়েছেন মা, দাদি ও ফুপুকে। সেইসঙ্গে হারিয়েছেন নিজের দুটি পা। সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তার। সেদিনের কথা মনে করে আজও কেঁদে ওঠেন রেবেকা।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাইহাট এলাকার চেয়ারম্যানপাড়ায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রেবেকা তার দুই বছরের কন্যাসন্তানকে পাশে রেখে রান্না করছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন আমি হাসপাতালে ছিলাম। পুরোপুরি সুস্থ হতে প্রায় ১০ মাসের মতো হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় আমি আমার মা, দাদি ও ফুপুকে হারিয়েছি।’

রেবেকা খাতুন সেদিনের দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনার পর আমার জ্ঞান ছিল না। দুই দিন পর জ্ঞান ফিরে এলে দেখতে পাই পায়ের ওপর সিমেন্টের বিম চাপা, ঘুটঘুটে অন্ধকার জায়গায় পড়ে আছি। তখন চিৎকার করলে কয়েকজন উদ্ধারকর্মী কাছে আসেন। কিন্তু তখনও তারা আমাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এসময় উদ্ধারকর্মীদের আমি আমার স্বামীর মোবাইল নাম্বার দেই। পরে তিনি এসে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় আমাকে উদ্ধার করেন। এরপর পঙ্গু হাসপাতালে দীর্ঘ এক বছর আমাকে চিকিৎসা নিতে হয়। বাম পা কোমর পর্যন্ত ও ডান পা গোড়ালি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে।’
রেবেকা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা পেয়েছি। সেটি স্থায়ী আমানত হিসেবে ব্যাংকে আছে। সেই স্থায়ী আমানতের টাকা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলছে। আমাকে দেখাশোনার জন্য স্বামী বাইরে কাজ করতে পারেন না। ’
দিনাজপুরে যেসব শ্রমিক রানা প্লাজার ঘটনায় আহত হয়েছিলেন তাদের চিকিৎসা প্রদান ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের নির্দেশক্রমে কাজ করে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার-সিডিসি।

সিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক যাদব চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিজিএমইএ’র তথ্যমতে রানা প্লাজায় কর্মরত ছিলেন দিনাজপুর জেলার ৭১ শ্রমিক। যাদের মধ্যে ২৭ জনকে জীবিকা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মধ্য দিয়ে পরিবারের আয় উন্নত করা, চিকিৎসা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম করে পুনর্বাসন করানো হচ্ছে, যাদেরকে এখনও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৪৪ জনের মধ্যে কেউ সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত, কেউ মারা গিয়েছেন আবার কেউ নিখোঁজ রয়েছেন।

/এআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ