ডিবি পরিচয়ে বাসচালককে পিটিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১০:৫৬, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩২, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয় দিয়ে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের চালককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৬৮টি আন্তঃজেলা রুট ও ১৯টি স্থানীয় রুটে একসঙ্গে ২৪ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা।

সোমবার (২২ এপ্রিল) রাতে জেলার পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলা সংলগ্ন শিকলবাহা ব্রিজ এলাকায় জালাল উদ্দিন নামে ওই চালককে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে শ্রমিকরা জানান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঠিক করতে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বৈঠকে বসে পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. মুছা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।

শ্রমিক ফেডারেশনের এই নেতা বলেন, ‘বাসচালককে হত্যার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা শুধু যাত্রীবাহী পরিবহনের ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য জেলায় যাতায়াতের ৬৮টি রুট এবং আরাকান সড়ক সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৯টি রুটে ধর্মঘট চলবে। পরে রবিবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় পণ্য ও যাত্রীবাহী পরিবহন ধর্মঘটের আহ্বান করা হয়েছে।’

শ্যামলী পরিবহনটির সুপারভাইজার আজিম উদ্দিনের দাবি, “সোমবার রাতে কক্সবাজার থেকে আসার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি পটিয়া উপজেলার শিকলবাহা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে, ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাতজন পুরুষ বাসে উঠে। এরপর তারা বাসে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় কিছু না পেয়ে একপর্যায়ে হাতকড়া পরিয়ে বাসের চালক জালাল উদ্দিনকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। বাস থেকে নামিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পেটাতে পেটাতে জালালকে আবারও বাসে নিয়ে আসে। এ সময় তারা জালালকে বলতে থাকে, ‘ইয়াবা কোথায় রেখেছিস?’। জালাল তার কাছে ইয়াবা নেই, জানানোর পরও ডিবি পুলিশ সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে আরও মারধর করে। একপর্যায়ে দ্বিতীয় দফায় বাস থেকে নামিয়ে অন্ধকারে নিয়ে ব্যাপক পেটায়। পরে তাকে বাসের ভেতরে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। এরপর আমরা শহর থেকে বিকল্প চালক এনে বাসটিকে নগরীর কর্নেলহাট কাউন্টারে নিয়ে যাই। সেখান থেকে রাত আড়াইটার দিকে জালালকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

তবে রাতে জালালকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোমবার রাতে জালাল উদ্দিন নামে কোনও রোগী হাসপাতালে এসেছে বলে রেকর্ড নেই।’

এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) এসএম মোস্তাইন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটেছে সেটি জেলা পুলিশের অধীনে। এ বিষয়ে তারা ভালো বলতে পারবে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সোমবার রাতে আমাদের কোনও টিম ওই এলাকায় অভিযানে যায়নি।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত ১২টার দিকে। অথচ তারা আমাদের জানিয়েছে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায়। এরপরও আমি খোঁজ নিয়েছি, আমাদের কোনও টিম সোমবার রাতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেনি।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সিভিলে অনেকেই এমন কাজ করছে। কেউ পুলিশকে বিব্রত করতে এ ধরনের কাজ করেছে কিনা আমরা খতিয়ে দেখবো। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে, পুলিশ ঘটনার তদন্তে কাজ শুরু করবে।’

নিহত বাসচালক জালাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়।

/আইএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ