জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চার কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ

Send
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:১৭, মে ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২০, মে ২৪, ২০১৯

নেত্রকোনানেত্রকোনা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এমএসআর (ওষুধ, গজ ব্যান্ডেজ, তুলা, কেমিক্যাল সামগ্রী ও আসবাবপত্র) সংগ্রহের দরপত্রে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে মঙ্গলবার (২১ মে) বিকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী কাজ বঞ্চিত ঠিকাদাররা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।
তারা সাংবাদিকদের জানান, দরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন সিভিল সার্জন মো. তাজুল ইসলাম খান। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন তারা।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এমএসআর সংগ্রহের দরপত্র আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দরপত্র অনুযায়ী হাসপাতালের ওষুধপত্র সংগ্রহ, সার্জিক্যাল যন্ত্রাংশ, গজ ব্যান্ডেজ, তুলা, কেমিক্যাল-রি এজেন্ট, লিলেন সামগ্রীসহ মোট ৬টি প্যাকেজে ৬৬ জন ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নেয়। পরে ১২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বৈধ ঘোষণা করে দরপত্র আহ্বান কমিটি। এ ব্যাপারে ঠিকাদাররা বারবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে দরপত্রের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন গরিমসি করেন। পরে তিনি বলেন, সর্বনিম্ন দরদাতার নামেই কার্যাদেশ দেওয়া হবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের র্দীঘদিনের পুরনো ঠিকাদার অরবিট ট্রেডিং কো. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবুল মনসুর অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলা সিভিল সার্জন মো. তাজুল ইসলাম খান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাত্র তিনজন ঠিকাদারকে এসব কাজ বন্টন করেছেন। তার মধ্যে নূর সার্জিক্যালকে দুই কোটি ৯০ লাখ টাকা, চৌধুরী সিন্ডিকেট ৪৩ লাখ ও মেসার্স সারোয়ার জাহান রঞ্জন ৬১ লাখ টাকার কাজ পান।’
অংশগ্রহণকারী আলেয়া করপোরেশন, ঢাকার সত্ত্বাধিকারী মাহবুব আলম টিটু একই অভিযোগ করে বলেন, ‘সিভিল সার্জন তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ ভাগ করে দিয়েছেন।’
এ ব্যাপারে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নুর সার্জিক্যাল, চৌধুরী সিন্ডিকেট ও সারোয়ার জাহান রঞ্জন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পিপিআর-এর নিয়ম মেনে দরপত্র আহ্বান করেছি এবং ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছি।’

/এআর/

লাইভ

টপ