কোল্লাপাথর শহীদ সমাধিতে ঈদ বিনোদন!

Send
উজ্জল চক্রবর্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত : ১৬:২০, জুন ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০০, জুন ১০, ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধাদের গণকবর কোল্লাপাথর শহীদ সমাধি যেন বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঈদের ছুটিতে অনেকেই সেখানে গিয়ে শহীদদের গণকবরের ওপরে বসছেন, ছবি তুলছেন। এতে বীর শহীদদের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন মহল। অবিলম্বে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্যতম মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সমাধিসৌধ কোল্লাপাথর। জেলা শহর থেকে ৪৯ কিলোমিটার দূরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত-ঘেঁষা কসবা উপজেলার পাহাড়বেষ্টিত ছায়াঘেরা নিবিড় গ্রামের একটি টিলার ওপর চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
পবিত্র এই স্থানটিকে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নানা সমালোচনা।
কোল্লাপাথর শহীদ সমাধিসৌধ নিয়ে কুমিল্লার স্থানীয় এক সাংবাদিক আবুল কাশেম হৃদয় তার ফেসবুকে কোল্লাপাথর সমাধির সার্বিক অবস্থা নিয়ে ছবিসহ একটি পোস্ট দেন। এসময় তিনি তার পোস্টে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সাম আল মামুন নামে একজন তার ফেসবুকে লেখেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। শহীদ বেদি বা স্মৃতিসৌধ বানালেই হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সরকার ও এলাকাবাসীকেই নিতে হবে। এটা পিকনিক স্পট নয়, শ্রদ্ধা জানানোর জায়গা।’
তারিন বিনতে এনাম নামে আরেকজন লেখেন, ‘হতভম্ব হয়ে গেলাম। কোনও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ সমাধিস্থলে এভাবে বসে থাকতে পারে?’
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার স্থলে ছবি তুলে এর পবিত্রতা নষ্ট করছে। নিজ চোখে দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। কী শিখছে এই প্রজন্ম?’
গণকবরটিকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারিভাবে সাইনবোর্ড টানানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুণ-অর-রশিদ বলেন, ‘জেলার অন্যতম গণকবরের মধ্যে এটি একটি। এই গণকবরের প্রতিটি কবরই আলাদা এবং সারিবদ্ধভাবে ইট দিয়ে বাঁধানো এবং প্রতিটি কবরেই নামফলক রয়েছে। কিন্তু বিনোদনের নামে এই গণকবরটির পবিত্রতা নষ্টের এই দায় কার?’
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। এই মুহূর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে কোল্লাপাথর সমাধিতে পবিত্রতা রক্ষার জন্য এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) কে নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি কেউ যেন আর জুতা নিয়ে গণকবরে প্রবেশ এবং শহীদদের গণকবরের ওপর বসে ছবি তুলতে না পারে সেজন্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা-আখাউড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করীম বলেন, কসবা পুলিশের পক্ষ থেকে গণকবরের পবিত্রতা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক হায়াত উদ্-দৌলা খাঁন বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহঙ্কার এবং গর্বের। বীর শহীদের গণকবরে এমন ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের গণকবরের পবিত্রতা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যা যা করা দরকার সবই করা হবে।’

/এআর/টিএন/

লাইভ

টপ