ওসি মোয়াজ্জেম বিষয়ে ফেনী সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা জারি

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:২৭, জুন ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৫, জুন ১২, ২০১৯

বিলোনীয়া সীমান্তফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন যাতে গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়িয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য বিলোনীয়া ইমিগ্রেশনসহ সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার (১২ জুন) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ফেনী ইমিগ্রেশনে এসে পৌঁছালে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

এ খবর নিশ্চিত করে বিলোনীয়া ইমিগ্রেশনের আইসি এসআই সুজাত আলী মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরই পুলিশের হেডকোয়ার্টার থেকে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে আমাদের কাছে তার পাসপোর্ট নম্বর দেওয়া হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করেছি যাতে তিনি এই ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে কোনোমতেই ভারতে পালাতে না পারেন।’

তিনি আরও জানান, ‘বিলোনীয়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াতরত সব ধরনের পাসপোর্ট যাত্রীদের ছবি ওয়ান্টেডভুক্ত তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই আসা-যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।’

ফেনীর পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন যেন পালিয়ে যেতে না পারেন এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছি।’

তবে ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাহিদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা সর্ম্পকিত কোনও চিঠি বা পরিপত্র আমাদের কাছে আসেনি। তবে আমরা সবসময় সীমান্ত এলাকায় কঠোর অবস্থায় থাকি। কোনোক্রমেই দেশে অপরাধ করে কোনও অপরাধী অবৈধভাবে দেশত্যাগ করতে পারবে না।’

পুলিশ সদর দফতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মোয়াজ্জেম হোসেনকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিতে চায় পুলিশ। দু’-একদিনের মধ্যেই তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। তবে তিনি যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সেজন্য দেশের সবক’টি বন্দরকে সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে স্থল ও বিমানবন্দরগুলোতে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য,  ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরীন আক্তার বাদী হয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন তিনি। এ ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল আইনে মামলাটি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। এরপর ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ওই আদালত।

গত ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। ওসি মোয়াজ্জেম এই ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন- 

ওসি মোয়াজ্জেমকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিতে চায় পুলিশ?

ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে রিট করা হবে

/এফএস/

লাইভ

টপ