ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে রিট করা হবে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:১২, জুন ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৮, জুন ১১, ২০১৯

সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন

ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে বা তিনি আত্মসমর্পণ না করলে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হবে। মঙ্গলবার (১১ জুন) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন এ তথ্য দেন।

সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলার বাদী ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেমের খুঁটির জোর কোথায়? আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে পুলিশ প্রশাসন গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে বা তিনি আত্মসমর্পণ না করলে ১৬ জুন হাইকোর্টে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে ২৭ মে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। নুসরাতের পরিবারসহ সারাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে কখন পলাতক ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার হবেন বা আইনের আওতায় আসবেন। আমরা ভেবেছিলাম, আজকে তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে আসবেন। কিন্তু তার মামলাটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠেনি। মনে হচ্ছে এর মাধ্যমে তিনি সময়ক্ষেপণ করে আমাদের সঙ্গে এবং জাতির সঙ্গে ইঁদুর-বিড়াল খেলছেন। আগামী ১৬ জুন থেকে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চ বসবে। তাই এ সময়ের মধ্যে মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার না করা হলে আমি বাদী হয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ বলে ঘোষণা করা হবে না তা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করবো।’

শঙ্কা প্রকাশ করে মামলার বাদী আরও বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম পুরোপুরি বহিষ্কৃত হননি, সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন। আর কতটা সময় নিলে মনে হবে পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হয়নি? আমি জানি, পুলিশ প্রশাসন চাইলে এমন কোনও কাজ নেই যে করতে পারে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও তারা আসামি ধরেছে, এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১৬ আসামিকে তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে এনেছে। পিবিআই এক মাস তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে এবং এই প্রতিবেদন পুলিশের হাতে ছিল। প্রতিবেদনে তিনি (মোয়াজ্জেম) দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। তবে এ পর্যায়েও কেন তারা (পুলিশ) তাকে (মোয়াজ্জেম) চোখে চোখে রাখতে পারল না? ওসি মোয়াজ্জেমকে ধরতে যত দেরি হচ্ছে ততই মানুষের মধ্যে বিশ্বাস প্রবল হবে যে, পুলিশ ওসি মোয়াজ্জেমকে ধরতে চাচ্ছে না।’
প্রসঙ্গত, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি। ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। তবে এরপরও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

 

/বিআই/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ