শ্রীমঙ্গলে লাশবাহী গাড়ি আটকে পুলিশের চাঁদা দাবির অভিযোগ

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:৫৪, জুন ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০১, জুন ১৬, ২০১৯

শ্রীমঙ্গলে লাশবাহী গাড়ি আটকে পুলিশের চাঁদা দাবির ঘটনায় সড়ক অরোধ করেন স্থানীয়রা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লাশবাহী গাড়ি আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। টাকা না দেওয়ায় চালককে মারধরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও এলাকাবাসী। শনিবার (১৫ জুন) দুপুরের দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের মতিগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে অবরোধের ফলে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি ও শ্রমিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকার রুবেল নামে এক চালক শুক্রবার (১৪ জুন) রাতে সিলেটের ওসমানী নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার লাশ একটি পিকআপ ভ্যানে (ঢাকা মেট্রো ন ১৫৭৩৮১) করে শ্রীমঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লাশবাহী পিকআপ ভ্যানটি মতিগঞ্জের বটেরতল এলাকায় পৌঁছালে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার অপরাধে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নান্নু মন্ডল যানটি আটক করে। পরে চালক ও লাশের স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এলাকাবাসীকে নিয়ে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে দুপুর ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলে। এ সময় মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

পিকআপ চালক শাকিবুল হাসান দাবি করেন, ‘উপজেলার মতিগঞ্জের বটেরতল এলাকায় লাশ নিয়ে পৌঁছালে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নান্নু মন্ডল প্রথমে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এটা কিসের লাশ? চুরির লাশ না মার্ডারের? পরে গাড়ির কাগজপত্র চেক করার পর তিনি পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় একপর্যায়ে তিনি আমাকে মারধর করেন।’

তবে এসআই নান্নু মন্ডল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘লাশের গাড়ির সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর উত্তরসুর বিসিক শিল্পনগরীর সামনে একটি পিকআপ ভ্যান নং ৪৮৬৭ মাত্রাতিরিক্ত মালামাল বোঝাই করে পিকআপের ওপরে তিনজন যাত্রী বসিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে ভুনবীর বাজারে যাওয়ার পথে আটকাই। পরে পিকআপের ওপরে বোঝাই তিন যাত্রীকে নামিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেই।’

কাগজ না থাকলে পিকআপ আটকালেন না কেন, এ প্রশ্নের উত্তরে নান্নু মন্ডল বলেন, লোকাল গাড়ি দেখে ছেড়ে দেওয়াটাই বড় ভুল হয়েছে। এখন অন্য বদনাম দিচ্ছে। দুপুর থেকে ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে সাতগাঁও শ্রীমঙ্গল অংশে শ্রমিকরা শতশত যানবাহন আটকে দেন।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুস ছালেক ট্রাক-ট্যাংকলরি পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। শ্রমিক অবরোধের বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে এসআই নান্নু মন্ডলকে ফাঁড়ি থেকে বদলির আশ্বাস পেয়ে সাধারণ শ্রমিকরা দুপুর ২টার দিকে সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

শ্রীমঙ্গল ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ফাঁড়ি ইনচার্জ নান্নু মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে যানবাহন আটকে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। লাশবাহী যান আটকে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন, না পেয়ে চালককে মারধর করেছেন। আমরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি। দাবি পূরণের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়েছি।

/টিটি/

লাইভ

টপ