আড়াই বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি রংপুর মহানগর বিএনপির কমিটি

Send
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশিত : ০৮:৪১, জুন ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪২, জুন ১৬, ২০১৯

বিএনপি

রংপুর মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের আড়াই বছর পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডেও কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি দলীয় কার্যালয়ের গলিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে মোজাফফর হোসেনকে সভাপতি, শহীদুল ইসলাম মিজুকে সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুস সালামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট রংপুর মহানগর বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কমিটিকে একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রের কাছে অনুমোদন নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু, এই কমিটিকে পকেট কমিটি হিসেবে আখ্যা দিয়ে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান শামুর নেতৃত্বে থাকা অংশ কমিটি বাতিল করে নয়া কমিটি গঠনের দাবিতে সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ করে। এ ঘটনার পর থেকে কার্যত মহানগর বিএনপি দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মহানগর সভাপতি মোজাফফর হোসেন সম্পাদক মিজুর নেতৃত্বে থাকা অংশটি দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান শামুর নেতৃত্বে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ডাকা কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে এখন পর্যন্ত বিরত রয়েছে। বরং দুই গ্রুপই আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামসুজ্জামান শামুর নেতৃত্বে অপর অংশটি রংপুর সদর আসনের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী রিতা রহমানের পক্ষে আলাদাভাবে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। একইভাবে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার পক্ষেও আলাদাভাবে প্রচারণায় অংশ নেয় দুই গ্রুপ। কিন্তু, মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের কোনও ওয়ার্ডে বিএনপির কমিটি না থাকায় সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মহানগরীর বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টও দিতে পারেনি।

মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলতৃণমূল বিএনপি নেতা বাবলু জানান, বিএনপি রংপুর মহানগরীতে সাংগঠনিকভাবে কোনও শক্তি অর্জন করতে পারেনি। হাতে গোনা কিছু নেতাকর্মী ছাড়া তাদের অবস্থা কমিউনিস্ট পার্টির চেয়েও শোচনীয়। ফলে তাদের যুবদল ছাত্রদল আর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে হয়। তাছাড়া মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর থেকে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব নিরসনে কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এখন লেজে-গোবরে অবস্থা। এবার রমজান মাসে দুই গ্রুপ দুই স্থানে পাল্টাপাল্টি ইফতার মাহফিলও করেছে। ৩০ মে নগরীর ধাপ এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিল ও জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে। অন্যদিকে শামসুজ্জামান শামুর নেতৃত্বে আগের দিন ২৯ মে ইফতার মাহফিল ও জিয়াউর রহমানের মৃতুবার্ষিকী পালন করেছে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে জেলা ও মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে।

এই প্রসঙ্গে রংপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান শামু বলেন, ‘রংপুর মহানগর বিএনপি বর্তমান কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণে তাদের ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রের অনুমোদন নিতে বলা হয়েছিল। অথচ তারা আড়াই বছরেও তা করতে পারেনি। ফলে, তাদের কমিটি তো অনুমোদিত নয়। এই কমিটির কার্যক্রমও অবৈধ। এছাড়া আড়াই বছরে মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের একটি ওয়ার্ডেও কমিটি গঠন করতে পারেনি তারা। রোজার মাসে ২-৩টি ওয়ার্ডে কমিটি করার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। শুধু তাই নয় গত আড়াই বছরে একটি সভাও করা হয়নি।’ সে কারণে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে রংপুর মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করার দাবি জানান।

শামুর অভিযোগের বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘এক বছর আগে মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তারা অনুমোদন না দিলে, কি করার আছে। শামু সাহেব তো মহানগর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, তারও তো দায়িত্ব আছে। আর মহানগরীর ওয়ার্ডগুলোতে কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।’

/এনআই/

লাইভ

টপ