সামান্য বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১০:৪০, জুন ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৩, জুন ১৬, ২০১৯

চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

সামান্য বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর কিছু কিছু এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এ জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যান চলাচল কমে যায়। ফলে নগরবাসীকে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওপর নগরবাসী ক্ষুব্ধ। তবে এ জলাবদ্ধতার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরস্পরকে দুষছে।

আগে যেখানে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরপরই পানি নেমে যেতো সেখানে এখন বৃষ্টি শেষ হওয়ার দুই তিন ঘণ্টা পরও পানি নামছে না। বৃষ্টির দুই ঘণ্টা পরে গিয়েও নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে জানান এক ভুক্তভোগী ব্যক্তি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেইট, চকবাজার, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর এই বৃষ্টি তীব্র তাপদাহ কমিয়ে নগর জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ তা কেড়ে নিয়েছে। শুধু সড়কে নয়, অলিগলি উপচে বাসা বাড়ি ও দোকানপাটেও ঢুকছে পানি। ফ্লাইওভারের নিচেও হাঁটু পানি জমেছে। বৃষ্টি শেষ হয়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পরও অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতা ছিল।

নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকার দোকানদার আবু বকর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘দুপুরের বৃষ্টিতে দুই নম্বর গেট এলাকায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমে গেছে। বিকেল ৫টায় ওই এলাকা পানির নিচে তলিয়ে ছিল।’ সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,‘আগে এতো পানি জমতো না। এখন সামান্য বৃষ্টিতে পুরো এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। পুরোদমে বর্ষা শুরু হলে কি হবে তা আল্লাহ জানেন।’ 

চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে জনগণ

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। এছাড়াও ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে কিছু কিছু এলাকায় মাঝারি আকারে বৃষ্টির হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

জলাবদ্ধতার ব্যাপারে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘বৃষ্টি শেষ হওয়ার পরপরই আমরা জলাবদ্ধ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেছি। সিটি করপোরেশনের ছোট ছোট ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার কথা। কিন্তু সেগুলো পরিষ্কার না করার কারণে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।’

এ অভিযোগ অস্বীকার করে সিটি করপোরেশরে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আমাদের দায়িত্ব ৩ ফুট পর্যন্ত নালা পরিষ্কার করা। আমরা তা করেছি। এর বাইরে যে বড় নালাগুলো আছে সেগুলো পরিষ্কার করার দায়িত্ব সিডিএ’র। বড় নালাগুলো পরিষ্কার না করার কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।’

 

/জেবি/

লাইভ

টপ