বগুড়ায় নদীর পানি বাড়ছেই, বহুমুখী দুর্ভোগে দুর্গতরা

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:০০, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৬, জুলাই ১৯, ২০১৯

অন্যত্র থেকে ভেসে এসেছে পাটের জাগ, কুকুরকে চিড়া খাওয়াচ্ছেন এক বন্যা দুর্গত কৃষক

বগুড়ার নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তিন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ফেলে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এসব স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকাল ৩টায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ব্রহ্মপুত্র ডানতীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (বিআরই) ঝুঁকিয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশা, কুতুবপুর, কর্ণিবাড়ি, দেলুয়াবাড়ি, গজারিয়া, বাগবেড়, হাটশেরপুর, কাজলা ইউনিয়নের ময়ূরের চর, কুড়িপাড়া গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক পরিবার গবাদিপশু ও সহায়-সম্বল নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বা স্কুলের কক্ষে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন।

কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী, শাহারুল, নজরুল ইসলাম প্রমুখ জানান, যমুনা নদীতে তীব্র স্রোতে তাদের ৩০ বিঘা জমির পাটের জাগ ভেসে গেছে। ওই পাট বিক্রি করে এবার কোরবানী ও সন্তানদের কাপড় দেওয়ার নিয়ত ছিল। বাড়িঘরে পানি ওঠায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে।

শালুকা গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, বানের ভয়ে চরের বাড়িতে মাটি কেটে উঁচু করেছিলেন। পানি এত বেশি হবে চিন্তাও করেননি। পানি বৃদ্ধির ফলে অন্য কোথাও আশ্রয় না হওয়ায় গত পাঁচ দিন পরিবার নিয়ে নৌকার ওপর মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

একই গ্রামের আশাদুল মণ্ডল ও করিম মণ্ডল জানান, ঘরের চাল পর্যন্ত বন্যার পানি। কয়েক দিন ধরে ঘরের চালার ওপর পরিবার নিয়ে উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

চন্দনবাইশা গ্রামের বৃদ্ধ ছালেক শেখ বলেন, চরে তার ছেলের বাড়ি। হঠাৎ বাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় ছেলে তাকে বাঁধে মেয়ের বাড়িতে রেখে গেছে। গরু, ছাগলগুলোও বাঁধে রেখে গেছে। ছেলে নাতি-নাতনিরা এখনও চরে আছে।

তিনি বলেন, তারা দু’একদিন অনাহারে থাকলেও ক্ষতি নেই; কিন্তু গবাদিপশুগুলোকে খাবার দিতে না পারলে খুব কষ্ট লাগে। চরে শুধু পানি থাকায় গরুর খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে কালিতলা গ্রোয়েনের উজানে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৩০ মিটার অংশ ধসে যাওয়ায় আশপাশে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে তাদের বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, তিন উপজেলার প্রায় ৪৫ কিলোমিটার বাঁধ রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় যমুনা নদীতে পানি বিপদসীমার ১২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মণ্ডল জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। বন্যা দুর্গতরা যাতে অনাহারে না থাকে সেজন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যমুনা নদী তীরবর্তী সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২৯ গ্রমের ৩১ হাজার ৫৮৫ পরিবারের এক লাখ ২৪ হাজার ২২০ মানুষ বন্যা দুর্গত হয়েছেন। এর মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলায় বেশি। এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১২ ইউনিয়ন, সোনাতলায় চারটি ইউনিয়ন ও ধুনটে দুটি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য ৩৩৭ মেট্রিক টন চাল ও দুই হাজার শুকনা খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। সারিয়াকান্দিতে ২৫১ টন চাল, সোনাতলায় ৪৫.৫ টন ও ধুনটে ৪০.৫ টন। এছাড়া শুকনা খাবার (চিড়া-গুড়) কেনার জন্য সারিয়াকান্দিতে পাঁচ লাখ, সোনাতলায় দুই লাখ ও ধুনটে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ