সামাজিক তহবিলের হিসাব চাওয়ায় এক পরিবারকে বয়কটের নির্দেশ!

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৫১, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫, জুলাই ১৯, ২০১৯

 ফেনীর সোনাগাজীতে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করে এক ঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুই সমাজপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ফেনীর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সমাজচ্যুত ওই পরিবারের সদস্য ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক বাদী হয়ে সমাজপতি নুরনবী তোতা মেম্বার ও ওয়াসিউর রহমান খসরুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের গৃহকর্তা মো. আবুল কালাম মিয়া জানান, তিনি উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামে রিয়াদ স্টোর নামে মুদি দোকানের ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে বসবাস করে আসছেন। তার ছেলে মোশাররফ হোসেন ওই সমাজের যুবক কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

আবুল কালাম বলেন, সমাজের স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে দাবি করে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য নূরনবী তোতা মেম্বার দীর্ঘদিন এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার করে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০-১৫ বছর পর্যন্ত সামাজিক আর্থিক তহবিলের কোনও প্রকার হিসাব না দিয়ে অর্থ তসরুপের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি যুবক কমিটি সমাজ পরিচালনা কমিটির কাছে আর্থিক তহবিলের হিসাব চান। এতে নুরনবী তোতা মেম্বার ক্ষুদ্ধ হন। এ ঘটনায় পরে গত ২৮ জুন তোতা মেম্বার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কটের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সমাজের ৩টি মসজিদে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া ঘরে ঘরে নির্দেশনাপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়।

সমাজপতিদের অন্যায় অপকর্মের প্রতিবাদ করলে বাড়ি-ঘরে হামলাসহ মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

এতে নিরুপায় হয়ে পরিবারটি আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে।

এ বিষয়ে নুরনবী তোতা মেম্বার জানান, ওই পরিবারের কয়েকজন সদস্য সমাজপতিদের সঙ্গে বেয়াদবি করায় তাদেরকে বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছি। সমাজচ্যুত করা হয়নি।

চরচান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। পরিষদে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।

এ বিষয়ে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাঈন উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে একজন পুলিশ অফিসারকে তদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/টিটি/

লাইভ

টপ