আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙে ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি

Send
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৩৩, জুলাই ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪১, জুলাই ২০, ২০১৯

রাণীনগরে বাঁধ ভেঙে ছোট যমুনা নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকছেনওগাঁর আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙে প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাপ্লাবিত হয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ডুবে গেছে বাড়িঘরসহ সবজিক্ষেত। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

শনিবার (২০ জুলাই) উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর চকবালু (বনকুড়া) এলাকায় বাঁধ ভেঙে প্রায় ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া রাণীনগরের নান্দাইবাড়ী-মালঞ্চিতে ছোট যমুনা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খান হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার এলাকার ছোট যমুনা নদীর নান্দাইবাড়ি, মালঞ্চি, কৃষ্ণপুর ও আত্রাই উপজেলার ফুলবাড়ি বেড়িবাঁধটি নির্মাণের পর থেকে দেখার কেউ নেই। ৪০ বছর ধরে কোনও দফতর কোনওদিন এটি সংস্কার করেনি। এমনকি কোনও দফতরই বাঁধটিকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্বীকার করে না। এজন্য বাঁধটি দীর্ঘদিন যাবৎ চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এর মালঞ্চি এলাকার কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বাড়িঘরই নয়, এই এলাকা পুকুর ও সবজি আবাদের জন্য বিখ্যাত। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বন্যার কারণে এই এলাকার পুকুর ও শতাধিক হেক্টরের সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাবে। এছাড়াও নওগাঁ-আত্রাই সড়কের বেশকিছু জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় স্থানীয়রা সড়কটিকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া অংশে নদীর পানিতে তেমন গতি না থাকায় বন্যাকবলিত এলাকা ছাড়া অন্য এলাকার ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্লাবিত তিনটি গ্রামেরই সবজির আবাদ ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার পদক্ষেপ নিয়েছি। এছাড়াও ভেঙে যাওয়া অংশ বাঁধার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাঁধটি পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

অন্যদিকে, আত্রাই নদীর চকবালু এলাকায় বাঁধ ভেঙে প্রায় ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,  নদীর ৩০টি পয়েন্টে বাঁধে ফাটল দেখা দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দেখা যায়নি। এর ফলে এই ভাঙন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মান্দা উপজেলার বনকুড়া, চকবালু, ভরট্ট, শিবনগর, দাসপাড়া, শহরবাড়ি, করনোভা, পারশিমলা, মহলা কালুপাড়াসহ অন্তত ৫০টি গ্রামের প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে আশেপাশের ফসলের মাঠ, আমন ধানের ফসল ও সবজিক্ষেত।

মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ৮২৯ হেক্টর আউশ, ৬০ হেক্টর আমন ও ৭৫০ হেক্টর সবজিক্ষেত বন্যায় তলিয়ে গেছে।’

 

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ