হত্যা মামলার ধারা না বদলালে রাজশাহী-রংপুর বিভাগ অচল করবেন ট্রাকচালকেরা!

Send
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:২৮, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৩, আগস্ট ২৪, ২০১৯

ট্রাকচালক শাহজাহান

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের চায়না মোড় এলাকায় গত ১৬ আগস্ট ট্রাক চাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘স্রেফ দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে মামলাটি  ৩০২ ধারার বদলে ৩০৪(খ) ধারায় রুজু করার দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এজন্য ৯ দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছে। দাবি আদায় না হলে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরিবহনে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট এই শ্রমিক সংগঠনটির নেতারা।

শনিবার দুপুরে নাটোর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের মতবিনিময় শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল মান্নান মন্ডল, সহ-সভাপতি ফিরোজ খান, শহিদুল শেখ, সাইদুর রহমান, ফরিদ আহমেদ সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শম্ভুগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশ রবি চৌধুরী তাদের ট্রাকে চাঁদাবাজি করার পর অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা কবলিত হন ও পরে হাসপাতালে মারা যান বলে এ সভায় দাবি করেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, আসামি ট্রাকচালক শাহজাহানের ছেলে শাকিল সরদার।

তিনি জানান, ১৫ আগস্ট রাত ৮ টার দিকে হেলপার না থাকার কারণে তাকে নিয়ে তার বাবা শাহজাহান রাজশাহী থেকে আলু নামিয়ে দিতে শম্ভুগঞ্জে যান। ১৬ আগস্ট সকাল ৯ টার দিকে রাজশাহীর উদ্দেশে বাঁশের ছলি নিয়ে রওনা দেন। পথে চায়না মোড় এলাকায় ব্রিজের পাশে ওই ট্রাফিক পুলিশ (রবি চৌধুরী) সিগন্যাল দেন। তার বাবা (শাহজাহান) গাড়ি থামিয়ে পুলিশকে (রবি চৌধুরী) ১শ’ টাকা দেন। এরপর ট্রাকটি আবার চালানোর মুহূর্তেই সামনে একটি লেগুনা ট্রাকের পাশে এসে পড়ে। এসময় ওই ট্রাফিক পুলিশও ধাক্কা খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকের নিচে তা পা চলে যায় ও তিনি গুরুতর আহত হন। তার বাবা ট্রাকসহ পালিয়ে না গিয়ে অন্যদের সহযোগিতায় আহত ওই ট্রাফিক পুলিশকে (রবি) হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পর তার বাবার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে চোখ বেঁধে ডিবি পুলিশ নিয়ে যায়। বর্তমানে তার বাবার বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

শাকিল সরদার দাবি করেন, তার বাবার বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা কোনোভাবেই সত্য নয়। তিনি নিজেই এর প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, আমার বাবা অপরাধ করলে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যেতেন। তিনি আহত ট্রাফিক পুলিশকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেন না। এটি একটি অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা। মামলাটিও সেভাবে করা উচিত।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রমিক নেতারা বলেন, ট্রাকচালক শাহজাহান ইচ্ছে করে কাউকে হত্যা করেননি। তাই তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে ৩০২ বিধিতে দায়ের না করে ৩০৪(খ) ধারায় হতে হবে। এজন্যই পুলিশকে ৯ দিনের আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন তারা।

রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটির ধারা পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনকে ৯ দিনের আল্টিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি আদায় না হলে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করা হবে। এসব জেলায় কোনও ধরনের যানবাহন চলবে না। পরবর্তীতে সারা দেশে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ