শনিবার গভীর রাতে জামালপুর ছেড়ে যান ডিসি আহমেদ কবীর

Send
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:৪১, আগস্ট ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪০, আগস্ট ২৫, ২০১৯

 আহমেদ কবীরআপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের জেরে সদ্য ওএসডি হওয়া জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীর শনিবার (২৪ আগস্ট) গভীর রাতে নিজ কার্যালয় (বাসভবন) ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তিনি কোথায় গেছেন সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজিব কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিসি স্যার আহমেদ কবীর একটি সেমিনারে যোগ দিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় অফিসে গিয়েছেন। ডিসি ফিরে আসবেন কিনা সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
রাজিব কুমার সরকার আরও বলেন, ‘স্যারের (আহমেদ কবীর) অফিসের পাশের কক্ষটি, যেখানে তিনি বিশ্রাম নিতেন, সেই কক্ষটি (খাস কামরা) তদন্তের জন্য তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসকের বাসভবনের কর্মচারী এবং গেটের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্যরা বলেন, আমাদের ডিউটি সকাল ৮টা থেকে। আজ রবিবার সকাল ৮টায় এসে আমরা ডিসি স্যারকে পাইনি। তিনি কোথায় আছেন, কখন ফিরবেন তাও জানি না।
জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনের রাস্তায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য বলেন, জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসভবন ছেড়ে ময়মনসিংহে চলে গেছেন।
এদিকে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে রবিবার বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের একান্ত সচিব মো. এনামুল হককে জামালপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহম্মদ বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় জামালপুর জেলাবাসীর ভাবমূর্তি রক্ষা হয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণ নিন্দনীয়।’
অ্যাডভোকেট বাবর আলী বলেন, ‘শুধু প্রত্যাহার করলেই হবে না । ডিসি’র বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করতে হবে। তার কঠিন সাজা হওয়া প্রয়োজন।’
অধ্যাপক সুরুজ্জামান বলেন, ‘জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই আমি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। তবে প্রত্যাহার করলেই চলবে না, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ কর্মকর্তাদের অবশ্যই কঠিন বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
জামালপুর নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা কিছুটা শান্তি পেয়েছি। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া প্রয়োজন।’
প্রসঙ্গত, জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওটিতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তার অফিসের এক নারী অফিস সহায়ককে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে, ভিডিওটি সাজানো দাবি করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর।

আরও পড়ুন: 
জামালপুরের বিতর্কিত ডিসি আহমেদ কবীরকে প্রত্যাহার

জামালপুরের ডিসি প্রত্যাহার হচ্ছেন, নতুন ডিসি আজই

জামালপুরের ডিসির ভিডিও বিতর্ক

/এআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ