৩০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা

Send
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:০০, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৫, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

পায়ে শিকল নিয়ে বসে আছেন রতন (ছবি– প্রতিনিধি)

মানসিকভাবে অসুস্থ রতন মিয়া (৫৫)। প্রায় ৩০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারান তিনি। সেই থেকে চার দেয়ালের একটি ছোট অন্ধকার কক্ষে তাকে শিকলে বেঁধে রেখেছে তার পরিবারের লোকজন। ওই কক্ষেই রতন খাওয়া-দাওয়া করেন, ঘুমান, এমনকি প্রাকৃতিক কাজও সারেন। সম্প্রতি রতন মিয়ার শিকলবন্দি জীবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, সম্পত্তির লোভে চিকিৎসা না করিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন রতনকে শিকলবন্দি করে রেখেছেন তার ভাই। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন বলছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি রতনকে উদ্ধার করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

রতন মিয়া কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ষাটিয়াদী গ্রামের হাজী বাড়ির মৃত আবদুল মোমেনের ছেলে। ২৫ বছর বয়সে গরু বাঁধার খুঁটির আঘাতে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন অবিবাহিত রতন। অভিযোগ আছে, এরপর আর চিকিৎসা না করিয়ে বসতঘরের বারান্দায় একটি ছোট কক্ষে রতনকে শিকলে বেঁধে রাখেন তার বড় ও ছোট ভাই। সরেজমিন জানা গেছে, রতনকে যে কক্ষে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে, সে কক্ষের দরজা বাইর থেকে তালাবদ্ধ থাকে সবসময়ই। ওই কক্ষের মাঝে একটি কংক্রিটের পিলার তৈরি করে তার সঙ্গে রতনকে বেঁধে রাখা হয়েছে; যার পাশেই রয়েছে বিছানা-বালিশ-মশারি। ওই রুমের একপাশে রয়েছে প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা, কমোড।

এই কক্ষেই রতন খাওয়া-দাওয়া করেন, ঘুমান, এমনকি প্রাকৃতিক কাজ সারেন (ছবি– প্রতিনিধি)

এ ব্যাপারে রতনের বড় ভাই আঙ্গুর মিয়া বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয়। আমি রতনকে ভালো করার জন্য ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। সে ভালো হয়নি। তাকে বেঁধে রাখা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না।’

পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমরা রতনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জেনেছি। যত দ্রুত সম্ভব রতনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সঠিক চিকিৎসা করানো হলে হয়তো ভালো হয়ে যেতো মানুষটি। এখনও তাকে চিকিৎসা দিলে ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবারের গাফিলতির কারণেই ৩০টি বছর বন্দিজীবন কাটাতে হয়েছে রতনকে।’

/এমএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ