সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও দুই শিশু হত্যা: একমাত্র আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:১৫, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৫, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

আসামি আব্বাস উদ্দিন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আব্বাস উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মিল্টন হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেয় সে। আদালত পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশলাইন্সে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, শ্যালকের চড় ও স্ত্রীর ওপর দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতেই শ্যালিকা ও তার দুই সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করে ঘাতক আব্বাস উদ্দিন। একই কারণে সে নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানকেও কুপিয়ে জখম করে।

এসপি বলেন, ‘কিছু হলেই আব্বাসের স্ত্রী ইয়াছমিন বেগম সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা বৌবাজার এলাকার তার বোন নাজনীন বেগমের বাসায় চলে যেতো। এ নিয়ে মাদকাসক্ত আব্বাস উদ্দিনের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছিল। আর সেই ক্ষোভের কারণেই পরিকল্পিতভাবে মা নাজনীন বেগম এবং তার দুই শিশু কন্যা নুসরাত (৬) ও খাদিজাকে (২) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত এবং কুপিয়ে হত্যা করে। একইসঙ্গে নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকেও হত্যার জন্য ছুরিকাঘাত করে সে।’

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, মা ও দুই মেয়ের খুনিকে হত্যাকাণ্ডের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার স্টেশন সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে খাবারের টেবিলের নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকারও করেছে।

এসপি আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রী ইয়াছমিনের ছোট ভাই নাছির উদ্দিন কোনও এক কারণে আব্বাসকে চড় মারে। রাগ করে স্ত্রী ইয়াছমিন তার প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে বোনের বাসায় চলে যায়। এসব কারণে আব্বাস উদ্দিন প্রতিদিনের মতো ইয়াবা সেবন করে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্যালক নাছির উদ্দিন, স্ত্রী ইয়াছমিন বেগম ও নাজনীন বেগমের স্বামী মোহাম্মদ সুমন কাজের জন্য বাসা থেকে বের হয়ে গেলে সিআইখোলার বাসায় যায় আব্বাস উদ্দিন। সেখানে গিয়ে সে নাজনীন বেগমের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে একে একে মা ও দুই মেয়েকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া দেখে ফেলায় তাকেও ছুরিকাঘাত করে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে।’

উল্লেখ্য, সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা বৌবাজার এলাকায় মা নাজনীন বেগম (২৮), দুই মেয়ে নুসরাত (৬) খাদিজাকে (২) নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত সুমাইয়াকে (১৫) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

/এমএ/

লাইভ

টপ