দেড় কোটি টাকার স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নদীগর্ভে বিলীন

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:২৬, অক্টোবর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০০, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার নদী গর্ভে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার আশোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনটি রক্ষার জন্য এলাকার মানুষ নানা রকমের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।

৩ মাস আগে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম এমপি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম নদী ভাঙন পরিদর্শনের সময় ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২ মাস আগে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কোনও কাজেই আসেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, সিডরের পর ভাঙনকবলিত আশোয়ার গ্রামের মানুষের আশ্রয়ে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবনটি নির্মাণ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর করাল গ্রাসে পড়ে হানুয়া ও আশোয়ার গ্রামের প্রায় ২শ’ পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। ২ বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি। কয়েকদিন ধরে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোসলেম আলি হাওলাদার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে সবার সামনে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার মানুষ বিদ্যালয়ের ভেতরের মালামাল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আংশিক উদ্ধার করলেও ভবনটি নদীগর্ভে চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পূজার বন্ধ থাকায় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে শিশু শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক ও অভিভাবকরা।’

তিনি আরও জানান, ‘ভাঙনকবলিত হওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন করা হলেও যেটুকু সাহায্য পাওয়া গেছে তা দিয়ে কোনও কাজ হয়নি। ভাঙন শুরু হওয়ার পরই প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হলে আমাদের স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হতো না। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে একটি  আশ্রয়স্থলও হারালো গ্রামবাসী।’

প্রত্যক্ষদর্শী গৃহবধূ রাবেয়া বেগম জানান, গত কয়েক বছর ধরে নদী ভাঙন আমাদের বাড়িঘর গ্রাস করে নিলেও আমরা প্রায়ই সাইক্লোন শেল্টারটিতে আশ্রয় নিয়েছি। সর্বশেষ আশ্রয়কেন্দ্রটিও নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ায় আমরা এখন নিঃস্ব। ভবিষ্যতে ঝড়, বন্যায় কোথায় আশ্রয় নেবো তা ভেবে পাচ্ছি না। মনে হয় আজ থেকে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছি।

স্থানীয় নাজিম খলিফা, আবুল হোসেন ফকির, জহির হাওলাদার বলেন, ‘বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য সরকারিভাবে সর্বশেষ জিও ব্যাগ ফেলে কোনও কাজ হয়নি। কারণ ব্যাগগুলো দায়সারাভাবে ফালানোর কারণে দ্রুত বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাসলিমা বেগম জানান, বিষয়টি শুনেছি। বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/জেবি/এমএমজে/

লাইভ

টপ