ইটের দালাল থেকে সাইবার অপরাধী!

Send
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৪১, অক্টোবর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫২, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

মাহফুজুর রহমান নবিন প্রথমে ইটের দালালি করতো। পরে সাইবার অপরাধী। তার নাম মাহফুজুর রহমান নবিন (২৮)। হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার মামদ নগর গ্রামে তার বাড়ি। 

নবিন র‌্যাবের ডিএডি পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাতো। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, মিডিয়াকর্মী, সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী কিংবা সাধারণ চাকরিজীবী।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) র‌্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে  আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, টার্গেট করার ক্ষেত্রে নারীদেরকেই সে সাধারণত প্রাধান্য দিতো। ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর প্রথমে মানসিক চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে একান্ত ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টস বিভিন্ন জনকে পাঠিয়ে দিতো। তারপর ধারাবাহিকভাবে হ্যাক করা আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিতো। নারীদের টার্গেট করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে তাদের মাথা জুড়ে দিয়ে ছবি এবং ভিডিও নির্মাণ করতো। এছাড়া টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ফরমায়েশ নিয়েও সে এই ধরনের কাজ করতো।

মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, এ পর্যন্ত র‌্যাবের কর্মকর্তা, টেলিভিশন উপস্থাপিকাসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফেসবুক আইডি হ্যাক ও একই নাম এবং ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করেছ নবিন। আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নবিনকে হবিগঞ্জের বাহুবল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাহুবল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘নবিনকে বুধবার রাতে থানায় হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে সাইবার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।’

র‌্যাব জানিয়েছে, নবিন প্রথমে কমিশনে (দালালি) ইট বিক্রি করতো। পরে সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এক সন্তানের জনক নবিন পরিবারের খোঁজ রাখতো না। সে ইজাজুর রহমানের ছেলে।  

/এনআই/

লাইভ

টপ