যে কারণে বিষখালি নদীতে ঠেকানো যাচ্ছে না মা ইলিশ শিকার

Send
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:১৯, অক্টোবর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩০, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ শিকার

প্রশাসনের স্বল্প জনবল ও মৌসুমি জেলেদের অপতৎপরতার কারণে ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালি নদীতে মা ইলিশ শিকার ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের নিজেস্ব নৌযান না থাকায় কমগতি সম্পন্ন স্থানীয় ট্রলার ভাড়া করে অভিযান পরিচালনা করে। এ কারণে মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের মা ইলিশ রক্ষাভিযানগুলো বেশির ভাগই ব্যর্থ হচ্ছে বলে সরকারি তালিকাভুক্ত জেলেদের অভিযোগ। স্বল্প জনবল নিয়েই যথাসাধ্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান রাজাপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার।

সূত্র মতে, আশ্বিনের পূর্ণিমার আগের ৪ দিন ও পরের ১৮ দিনসহ মোট ২২দিন বিষখালি নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হওয়ায় সরকার এ নিষেধজ্ঞা জারি করেছে। আইনানুযায়ী ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

শনিবার (১১ অক্টোবর) সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সরেজমিন বিষখালি নদী তীর ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা ও সোয়া ১২টার দিকে গজালিয়া ও হদুয়া এলাকায় প্রায় ৩০টিরও বেশি নৌকা কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ শিকার করছে। এসময় একটি টহল ট্রলার গজালিয়া এলাকায় গিয়ে নোঙর করেও, একটু পরে চলে যায়। এছাড়া আর কোনও ট্রলার চোখে পড়েনি। মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের অভিযান সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং বিকেলে থেকে রাত পর্যন্ত পরিচালিত হয়। টহল ট্রলারগুলো কিছু দূর চলে গেলেই জেলেরা কারেন্ট জাল নিয়ে মাছ শিকার শুরু করে। ভোর রাত থেকে সকাল ১০ পর্যন্ত অভিযান বন্ধ থাকে। এ সময় জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করে।

পালট গ্রামের জেলেদের অভিযোগ, পালট ও বড়ইয়া গ্রামের জেলেরা মাছ শিকার থেকে বিরত থাকলেও নলছিটির উপজেলার বিষখালি নদীর অপর পাড়ের বেরনবাড়িয়া, হদুয়া, নেয়ামতি, গজালিয়া চামটা গ্রামের জেলেরা ৩০টিরও বেশি নৌকা ও কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছে। ওইসব এলাকার মৌসুমি জেলেরা নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই একাধিক কারেন্ট জাল ও নৌকা মজুদ করে রেখেছে। যাতে প্রশাসনের হাতে জাল ও নৌকা ধরা পড়লেও তাদের মাছ শিকারে অসুবিধা না হয়। নলছিটি উপজেলা শহর থেকে বিষখালী নদীর দূরত্ব বেশি হওয়ায় উপজেলার প্রশাসন সেখানে কোনও অভিযান চালাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন পালট গ্রামের জেলেরা।

বিষখালী নদীতে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে

সরকারি তালিকাভুক্ত জেলেদের অভিযোগ, তারা নিষেধাজ্ঞা মানলেও মৌসুমি জেলেরা নদী থেকে ইলিশ ধরে গ্রামে গ্রামে গোপনে বিক্রি করছে। ফলে তালিকাভুক্ত জেলে পরিবারগুলোর দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। এছাড়াও মৌসুমি জেলেরা টাকার বিনিময়ে উপজেলা মৎস্য কর্মচারীদের ম্যানেজ করেও মৎস্য শিকার করছে। এসব কর্মচারীরা  জেলেদের আগেই টহল দলের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেয়।  

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলা শহর থেকে বিষখালি নদীর দূরত্ব অনেক। এ কারণে অভিযান শেষ ও শুরুর মাঝের সময়টাতে জেলেরা মাছ শিকার করছে। জনবল কম ও নিজস্ব বাহন না থাকা এবং নদীতে দ্রুত গতির বাহন ব্যবহারের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় এক শ্রেণির জেলে এ সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে।

বড়ইয়া ইউপি সদস্য শাহাদাৎ হোসেন কাজল মোল্লা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় যাতে এলাকার কেউ মাছ শিকার না করে এজন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু নলছিটির জেলেরা সুযোগ বুঝে ঠিকই মাছ শিকার করছে, এবিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজর দেওয়া জরুরি।

নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রমনি কান্ত মিন্ত্রী জানায়, দূরত্ব বেশি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় অভিযানে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু জেলে মাছ শিকার করছে, তবে অভিযান চলমান রয়েছে। জেলে ও জাল আটক করা হচ্ছে।

রাজাপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার শনিবার ১১টা ৫০ মিনিটে জানান, অভিযানের একটি টিম সেখানে নোঙর করেছে এবং ইউএনওর নেতৃত্বে একটি টিম নদীতে রয়েছে। নদীর তীরে ছোট ছোট ক্যানেল থাকার কারণে অভিযানের সময় জেলেরা ক্যানেলে ঢুকে পড়ে। আর ক্যানেলগুলোতে ঢোকা যায় না। সেখানে অভিযান চালাতে গেলে জেলেরা ও তাদের লোকজন ইট পাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। তারপরও অভিযান চলমান রয়েছে।

রাজাপুরের ইউএনও সোহাগ হাওলাদার জানান, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নিধনরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। ইলিশ রক্ষায় নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ