নতুন ঘর পেলো কাশিয়ানীর ৩৫ পরিবার

Send
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:০৬, অক্টোবর ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে তৈরি পাকা বাড়ি কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৩৫টি দরিদ্র পরিবারকে তাদের নিজেদের জমিতে বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে সরকার। দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে উপজেলায় মোট ৩৫টি পরিবারকে পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে তাদের কাছে বাড়িগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। 

নিজের জমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ায় এ পরিবারগুলোকে এখন আর রাত-বিরাতে অন্যের বাড়িতে ঘুমাতে হবে না। ঝড়-বৃষ্টিতে দৌড়ে পালাতে হবে না আশ্রয়ের খোঁজে। প্রত্যেক পরিবারের জন্য দালান ঘর, পাকা পায়খানা, রান্নাঘর ও বারান্দাসহ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে সরকার। নতুন বাড়ি পাওয়ার আগে অনেকেই পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। এখন নতুন বাড়ি পেয়ে তারা খুশি।
কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের শ্মাশান ঘাটের পাশের বাসিন্দা গুরুপদ দাসের ছেলে অসিম কুমার দাস পেশায় মুচি। বাবার রেখে যাওয়া চার শতক জমি তার শেষ সম্বল। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মোট চার জনের সংসার। জুতা সেলাই করে যা আয় হয় তা দিয়ে বাড়ি বানানো তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আগে ঝড় বৃষ্টিতে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিতে হতো তাকে। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় দুটি শোয়ার ঘরসহ বারান্দা, রান্নাঘর ও পাকা পায়খানা পাওয়ায় এখন তার মাথা গোঁজার স্থায়ী ব্যবস্থা হয়েছে।
উপজেলার বেথুড়ী গ্রামের অন্ধ ভিক্ষুক ৬২ বছর বয়সী অহিদ মোল্যার শেষ সম্বল বাবার রেখে যাওয়া তিন শতক জমি। মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে একটি টিনের ছাপড়া দিয়ে কোনো রকমে জীবনযাপন করছিলেন। বৃষ্টি হলে রান্না বন্ধ থাকতো। উপজেলার পুইসুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আফতাব মোল্যার স্ত্রী ফরিদা বেগম নিঃসন্তান। স্বামী মারা যাওয়ার সময় সাড়ে তিন শতক জমি রেখে গেছেন। সরকারি অর্থায়নে সেখানে নিজের বাড়ি হওয়ায় তাকে এখন আর অন্যের ঘরে বসবাস করতে হয় না।
উপজেলার ব্যাসপুর গ্রামের বিধবা মরিয়ম বেগমের তিন সন্তান। মানুষের বাড়িতে কাজ করেন তিনি। সন্তানদের দিকে চেয়ে শত অভাবেও বিক্রি করেননি শশুরের ভিটা। সেই ভিটায় এখন পেয়েছেন স্থায়ী আশ্রয়।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, শুধু কাশিয়ানী নয় জেলায় এবার ১৯৩টি পরিবারকে দুর্যোগ সহনীয় ঘর দেওয়া হয়েছে। যাদের জায়গা আছে কিন্তু ঘর নাই সরকার তাদের এসব ঘর বানিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। আগামীতে আরও ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এগুলোও দরিদ্র লোকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

 

/ওআর/

লাইভ

টপ