আনন্দবাজারকে ফারুকীই জানান- ‘ডুব’ হ‌ুমায়ূনের জীবন থেকে নেওয়া

Send
মাহমুদ মানজুর
প্রকাশিত : ১৭:৩৮, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪০, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭

(বাঁ থেকে) হুমায়ূন আহমেদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ইরফান খান

“বিতর্কিত বলেই এতোসব কিছু চেপে রাখা? নইলে হ‌ুমায়ূন আহমেদের জীবন নিয়ে বাংলাদেশে সিনেমার শুটিং হলো। নায়ক ইরফান খান। কেন জানতে দেওয়া হলো না কাকপক্ষীকে? খবর দিলেন ইন্দ্রনীল রায়।”

গত বছরের ৪ নভেম্বর ভারতের প্রভাবশালী বাংলা পত্রিকা আনন্দবাজারে প্রকাশিত একটি খবরের সূচনা বক্তব্য ছিল এমন। প্রতিবেদক ইন্দ্রনীল রায়ের সেই বোমা ফাটানো বিস্তারিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল— ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে ইরফান? কিন্তু এতো লুকোছাপা কেন?’

মূলত এই খবরের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের মিডিয়ায় ঝড় ওঠে প্রথম। তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক। প্রতিবাদ ওঠে হ‌ুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওনের পক্ষ থেকে। ফেসবুক দেওয়ালে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে হ‌ুমায়ূন ভক্তদের। কারণ দুটি। প্রথম কারণ, নন্দিত সাহিত্যিক-নির্মাতা হ‌ুমায়ূন আহমেদের জীবনের একটি অংশ নিয়ে ছবিটি নির্মাণের খবর জানা গেলেও এ বিষয়ে অনুমতি নেওয়া হয়নি পরিবারের কোনও সদস্যের কাছ থেকে। দ্বিতীয়ত, এমন অভিযোগের বিপরীতে নির্মাতা ফারুকী বরাবরই বলে আসছেন— ‘ডুব ছবিটির গল্প হ‌ুমায়ূন আহমেদের জীবন থেকে নেওয়া নয়। এটা মৌলিক গল্প। তাই এটা নিয়ে বিতর্কেরও সুযোগ নেই।’

সম্প্রতি ছবিটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রিভিউ কমিটিতে জমা পড়ে। একই সময়ে মেহের আফরোজ শাওন একটি আপত্তিপত্র দেন কমিটিতে। এর প্রেক্ষিতে ছবিটি মুক্তির বিষয়ে আপাতত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয় কমিটির পক্ষ থেকে। ফলে তৈরি হয় ছবিটি নিয়ে নতুন করে পুরনো বিতর্ক। সেই বিতর্কের জবাবে এবার আরেকটু আগ বাড়িয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী গণমাধ্যমকে বললেন, “মেহের আফরোজ শাওন ‘ডুব’ নিয়ে আপত্তি জানানোর কে?”

ফারুকীর এমন কড়া বক্তব্য এবং গল্পটি নিয়ে তৈরি ধুম্রজাল থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে খুঁজতে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে। কারণ তারাই প্রথম হ‌ুমায়ূন -ডুব-ফারুকী-ইরফানের খবরটি প্রকাশ করে। ফলে প্রশ্ন আসতেই পারে বাংলাদেশ ছাপিয়ে আনন্দবাজার কেমন করে নিশ্চিত হলো, ছবিটি হ‌ুমায়ূন আহমেদের জীবনের অংশ থেকে নেওয়া?

ডুব-এর প্রিমিয়ারে রোকেয়া প্রাচী, ইরফান খান, তিশা ও পার্নো মিত্র/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেনএমন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে আনন্দবাজারের সেই প্রতিবেদক ইন্দ্রনীল রায়ের সঙ্গে আলাপ হয় বাংলা ট্রিবিউনের। যার প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের পাঠকরা প্রথম জানতে পারেন, ‘ডুব’ নিয়ে ফারুকীর দীর্ঘ লুকোচুরিরর গল্পটি। শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইন্দ্রনীল রায় বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে জানান, ‘ফারুকীর ছবিটির গল্প হ‌ুমায়ূন আহমেদের জীবন থেকেই নেওয়া, এ বিষয়ে দ্বিধার কোনও অবকাশ নেই। কারণ, আনন্দবাজারে যে প্রতিবেদনটি আমি করেছি, সেটার খবর পরিচালক ফারুকী নিজেই আমাকে জানিয়েছেন। তিনি না জানালে বাংলাদেশের খবর আমি পাবো কোথা থেকে?’

ইন্দ্রনীল রায় আরও বলেন, ‘যদি ছবিটির গল্প হ‌ুমায়ূন আহমেদের জীবন থেকে নেওয়া না হতো, তাহলে এই খবর এতোটা গুরুত্ব পেতো না আমাদের কাছে। আমি তো পাগল নই, কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট কেন করবো? পরিচালকের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েই রিপোর্টটি করেছি।’

পাল্টা প্রশ্ন ছিল তাহলে ফারুকীর উদ্ধৃতি দিয়ে কেন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেননি? জবাবে ইন্দ্রনীল রায় বলেন, ‘ফারুকী তখন এই বিষয়ে তার নাম সরাসরি প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তিনি আমাকে এটাও বলেন, সরাসরি তার মন্তব্য প্রকাশ করলে ছবিটা নিয়ে ঝামেলা হতে পারে।’

এ বিষয়ে শনিবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোনে সাড়া দেননি।

এদিকে গেল নভেম্বরে শুরু হওয়া এমন বিতর্কের মাঝে খানিক ভাটা পড়লেও সম্প্রতি একই ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম। কারণ অনেক বিতর্ক পেরিয়ে ছবিটি ছাড়পত্রের জন্য জমা পড়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রিভিউ কমিটিতে। যৌথ প্রযোজনার ছবি হিসেবে সেন্সর বোর্ডে যাওয়ার আগে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’-এর জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত প্রিভিউ কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। 

একই সময়ে (১৩ ফেব্রুয়ারি) ছবিটির গল্প নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে প্রিভিউ কমিটিকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে একটি চিঠি দেন মেহের আফরোজ শাওন। ধারণা করা হচ্ছে, মূলত এই চিঠির সূত্র এবং ছবির গল্প নিয়ে তৈরি বিতর্কের সত্যতা পেয়েই সেন্সর বোর্ডে যাওয়ার আগে প্রিভিউ কমিটির অনুমোদন ছাড়পত্র আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

ডুব-এর একটি দৃশ্যে তিশা ও ইরফান খানএই স্থগিতাদেশের খবরটিও বাংলাদেশের মিডিয়া প্রথম জানতে পারে শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা ভ্যারাইটি’র একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে। মূলত এই পত্রিকাটির মাধ্যমেই গেল বছর প্রথম জানা গেছে- ফারুকী-ইরফান খানের জোটবদ্ধতার কথা। এবার ওই পত্রিকাই প্রথম জানান দেয়, ‘বাংলাদেশ নিষিদ্ধ করেছে ইরফান খান অভিনীত ‘নো বেড অব রোজেস’! যদিও ‘ডুব’ নিষিদ্ধ হয়নি।

এদিকে ছবিটি নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে কাল রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেহের আফরোজ শাওন একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছর ১৭ মার্চ ‘ডুব’ ছবির শুটিংয়ে অংশ নিতে ইরফান খান ঢাকায় আসেন। সিনেমাটি বাংলাদেশে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে ভারতের এসকে মুভিজ ও ইরফান খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন-

‘ডুব’ প্রচারণায় ফারুকীর ‘হ‌ুমায়ূন’ কৌশল?

হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে ইরফান? কিন্তু এত লুকোছাপা কেন

/এমএম/জেএইচ/

লাইভ

টপ