অ্যাপসায় বিচারকের আসনে বাংলাদেশের রুবাইয়াত

Send
জনি হক
প্রকাশিত : ১১:২৬, নভেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৩, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

রুবাইয়াত হোসেন (ছবি: সংগৃহীত)এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসের (অ্যাপসা) ১২তম আসরের বিচারকের আসনে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নারী নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন। এর সুবাদে মর্যাদাসম্পন্ন অ্যাপসা অ্যাকাডেমিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) এই প্রতিবেদককে পাঠানো ই-মেইলে খবরটি জানিয়েছেন অ্যাপসার পাবলিসিস্ট অ্যালিসিয়া ব্রেসিয়ানিনি।

অ্যাপসার ইয়ুথ, অ্যানিমেশন ও ডকুমেন্টারি বিভাগের বিচারক প্যানেলে আমন্ত্রণ পেয়েছেন রুবাইয়াত হোসেন। তার পাশাপাশি আছেন লুকাস ফিল্মের ভিএফএক্স অ্যান্ড অ্যানিমেশন স্টুডিও ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইট অ্যান্ড ম্যাজিকের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা লুক হেথারিংটন। এ বিভাগে বিচারকদের প্রধান অস্ট্রেলীয় প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা এবং ডকুমেন্টারি অস্ট্রেলিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিৎজি গোল্ডম্যান। তিনটি বিভাগে বিজয়ী নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব থাকছে তাদের কাঁধে।

এর আগে আসগার ফারহাদি, শ্যাম বেনেগাল, জাফর পানাহি, শাবানা আজমির মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা এ আয়োজনের বিচারক ছিলেন। অ্যাপসার বিচারক নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে রুবাইয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অ্যাপসায় বিচারক হওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ায় আমি সম্মানিত। তবে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সেরা ছবি ও প্রামাণ্যচিত্রের বিচার করতে বসা কঠিন কাজ। এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং।’

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ছবিগুলোর জন্য অ্যাপসাকে ধরা হয় সর্বোচ্চ সম্মান। আগামী ২৯ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে ঘোষণা করা হবে পুরস্কার জয়ীদের নাম। এবার মূল প্রতিযোগিতায় আছে ২২ দেশের ৪৬টি ছবি। এ বিভাগে বিচারকদের সভাপতি হিসেবে আছেন ২০১৪ সালে অ্যাপসা জয়ী ‘লেভিয়াফান’ ছবির প্রযোজক ইউক্রেনের আলেক্সান্ডার রডনিয়ানস্কি।

শুরু থেকেই অ্যাপসার সহযোগী জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ইউনেস্কো। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দেওয়া হবে কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড। এর বিজয়ী নির্বাচনে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইয়েমেনের নারী নির্মাতা খাদিজা আল-সালামি, লাওসের প্রথম নারী নির্মাতা ম্যাটি ডো, ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি বৈচিত্র্যের নীতি ও গবেষণা ইউনিটের প্রধান অ্যান্থনি ক্রাউস।

অ্যাপসা চেয়ারম্যান মাইকেল হকিন্স বলেন, ‘অ্যাপসায় আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলে রয়েছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। গুণী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের বিচারকের আসনে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমরা সম্মানিত।’

মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র ‘মেহেরজান’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে রুবাইয়াত হোসেনের পরিচালনায় অভিষেক হয়। এর আগে ‘প্রিয় আমি’, ‘বালিকার গোল্লাছুট’, ‘সীমান্ত’ স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি বানিয়ে হাত পাকিয়েছেন তিনি। তার দ্বিতীয় ছবি ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ দেশ-বিদেশে অনেক পুরস্কার জিতেছে।

রুবাইয়াত হোসেনের তৃতীয় ছবি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে। দৃঢ়চেতা পোশাককর্মীর সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে পোশাকশিল্পের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে এতে। ছবিটি মুক্তি পাবে ২০১৯ সালে। অভিনয়ে রিকিতা নন্দিনী শিমু, দীপান্বিতা মার্টিন, মায়াবী মায়া, নভেরা রহমান, পারভীন পারু, মুস্তাফা মনোয়ার, শতাব্দী ওয়াদুদ, জয়রাজ, মোমেনা চৌধুরী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও সামিনা লুৎফা।

/জেএইচ/এমএম/

লাইভ

টপ