পেনেলোপির গালে চুম্বন এঁকে দিলেন বান্দেরাস ও পেদ্রো

Send
জনি হক, কান (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশিত : ১৩:৫৩, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩১, মে ১৯, ২০১৯

সংবাদকর্মীরা ছবি আর ভিডিও তুলতে হামলে পড়লো বলা যায়  একসঙ্গে আন্তোনিও বান্দেরাস ও পেনেলোপি ক্রুজকে পাওয়া যাবে। সেজন্য শনিবার (১৮ মে) আগেভাগে ঢুকে পড়েছি ফ্রান্সের কানে অবস্থিত পালে দে ফেস্তিভাল ভবনে।
স্প্যানিশ এই দুই তারকা ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’ নিয়ে এসেছেন সাগরপাড়ে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন স্প্যানিশ চলচ্চিত্রকার পেদ্রো আলমোদোভার। তাদের সংবাদ সম্মেলন দুপুর ১২টায়। এর এক ঘণ্টা আগে থেকে তিনতলায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কারণ, আসন পূর্ণ হয়ে গেলে আয়োজকদের প্রতিনিধির মুখে শুনতে হবে ‘সরি, ইটস ফুল।’
একঘণ্টা ধরে অপেক্ষাটা যতটা না ‘পেইন’ ছিল, সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আন্তোনিও বান্দেরাস ও পেনেলোপি ক্রুজ ঢুকতেই তা পরিণত হলো ‘গ্লোরি’তে! সংবাদকর্মীরা তাদের ছবি আর ভিডিও তুলতে হামলে পড়লেন বলা যায়।  
পেনেলোপিকে গত আসরেও সামনে থেকে দেখেছি। বয়স ৪৫ ছুঁয়েছে কে বলবে! অসামান্য রূপবতী বুঝি একেই বলে। হাসিটা ভুবনভোলানো। এক বয়স্ক সাংবাদিক তো প্রশ্ন করার ছলে এই রূপসীর জন্য নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে দিলেন অকপটে। মিলনায়তনে তখন পড়ে গেলো হাসির রোল।
এদিকে আন্তোনিও বান্দেরাসের দিক থেকেও চোখ সরে না কারও। ছোটবেলা ‘ডেসপেরাডো’ (১৯৯৪) ছবির মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। এরপর ‘দ্য মাস্ক অব জরো’ (১৯৯৮), ‘অরিজিনাল সিন’ (২০০১) ‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন মেক্সিকো’ (২০০৩), ‘দ্য লিজেন্ড অব জরো’ (২০০৫) প্রভৃতি ছবি দেখে লোকটার প্রতি আলাদা ভালো লাগা জন্মায়।
সংবাদ সম্মেলনে বান্দেরাস জানালেন অজানা একটি তথ্য। দুই বছর আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তার। এ কারণে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হলেও ওই ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে সাজাতে পেরেছেন বলে মনে করেন তিনি। ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। আগের চেয়ে ব্যায়াম বেশি করেন। মস্তিষ্কও নাকি বেশ ভালো কাজ করে ৫৮ বছর বয়সী এই তারকার, ‌‘ক্যারিয়ারে বেশি মনোযোগ দিতে পারছি। আর নিজেকে বেশ সজীব আর নতুন লাগে।’
পেনেলোপির গালে পেদ্রো ও বান্দেরাস মিলে চুম্বন এঁকে দিলেন‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’র মাধ্যমে আট বছর পর পেদ্রো আলমোদোভারের পরিচালনায় কাজ করলেন আন্তোনিও বান্দেরাস। এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো তারা হাত মেলালেন। আর পেনেলোপিকে ১০ বছর পর এই গুণী নির্মাতার ছবিতে পাওয়া গেলো। দু’জনই পেদ্রোর ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ ছবিতে আছেন।
কানের ৭২তম আসরের প্রতিযোগিতা বিভাগে আছে ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’। এর গল্প বয়স্ক ও যন্ত্রণায় ভুগতে থাকা একজন চলচ্চিত্র পরিচালককে ঘিরে। শৈশব, অতীতের প্রেম ও নিজের পুরনো ছবিগুলো দিকে ফিরে তাকায় সে। পরিচিত মানুষগুলোর সঙ্গে আবারও সাক্ষাৎ করতে থাকে এই পরিচালক। এটি মূলত পেদ্রো আলমোদোভারের নিজের গল্প বলে উল্লেখ করেন বান্দেরাস, ‌‘চিত্রনাট্য পড়েই বুঝেছি লোকটা পেদ্রো নিজেই! এটি তার জীবনের প্রতিফলন। এ ছবির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়টুকু ছিল জীবনের সবচেয়ে সুখের।’
বান্দেরাসের মুখে এটা শুনে পেদ্রো বলেছেন, ‘ধরুন আপনি একজন চলচ্চিত্রকার। কোনও নির্মাতাকে নিয়ে গল্প লিখতে গেলে নিজের জীবনকে অনুপ্রেরণা হিসেবে না নেওয়া অসম্ভব।’
ছবিটিতে চলচ্চিত্র নির্মাতার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পেনেলোপি। তাকে দেখা গেছে ফ্ল্যাশব্যাকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কাজটা কেন করলেন? তার উত্তর, ‘কৌতূহল ছিল। আমার মনে হয়, যারা সাহসের সঙ্গে নিজের সত্যিটা উপস্থাপন করেন তাদের প্রতি সম্মান জানানো দরকার। আমার ভেতরেও এমন অনুভূতি ছিল। তাই প্রশ্ন না করে রাজি হয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আসার ঠিক আগে ফটোকলে বেশ মজা করেছেন ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’ বাহিনী।  পেনেলোপির গালে পেদ্রো ও বান্দেরাস মিলে চুম্বন এঁকে দিয়েছেন। একক ফটোকলে পোডিয়ামের ওপর উঠে নেচেছেন বান্দেরাস। পর্দায় তাকে যেমন ফুর্তিবাজ লাগে, ফটোকলে সেই ছিটেফোঁটা পাওয়া গেলো।


শুক্রবার গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ের ও সাল বাজিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছিল ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’র উদ্বোধনী প্রদর্শনী। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা ও দুপুর ১২টায় গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে আবারও এটি দেখানো হয়।
এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো কান উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হলো পেদ্রো আলমোদোভারের ছবি। এরমধ্যে ১৯৯৯ সালে ‘অল অ্যাবাউট মাই মাদার’-এর সুবাদে সেরা পরিচালক হন তিনি। ২০০৬ সালে ‘ভলভার’ সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার এনে দেয় তাকে।  ২০১৭ সালে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের সভাপতি ছিলেন তিনি।

‘অল অ্যাবাউট মাই মাদার’ (২০০০) ছবির জন্য অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের বিদেশি ভাষার ছবি বিভাগে অস্কার জেতেন পেদ্রো আলমোদোভার। ২০০৩ সালে ‘টক টু হার’ ছবির সুবাদে সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের অস্কার ওঠে তার হাতে। তবে এখনও স্বর্ণ পাম জেতা হয়নি ৬৯ বছর বয়সী এই নির্মাতার। দেখা যাক, ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’ তাকে সেই ‘গ্লোরি’ এনে দিতে পারে কিনা। সে পরের কথা। সংবাদ সম্মেলন থেকে যাওয়ার আগে বান্দেরাস ও পেনেলোপি বাংলা ট্রিবিউনের প্যাডে দিয়ে গেলেন অটোগ্রাফ। বান্দেরাস এই প্রতিবেদকের সঙ্গে তুললেন সেলফিও।
পেনেলোপি ক্রুজ ও আন্তোনিও বান্দেরাস ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’ টিমের মাঝে

/এমএম/

লাইভ

টপ