behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

‘এসএমএস ভোট’ এবং নিলয়ের অভিমান

বিনোদন ডেস্ক১৬:০২, জানুয়ারি ১২, ২০১৬

নিলয়। শুরুটা রিয়েলিটি শো ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’ বিজয় দিয়ে। তবে মুঠোফোন বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে সর্বাধিক নজর কাড়েন তিনি। টিভি নাটকের পাশাপাশি সানিয়াত হোসেনের ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ দিয়েও রূপালি সম্ভাবনার দাগ কাটেন এ অভিনেতা। তবে মিডিয়ায় তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন মডেল-অভিনেত্রী শখের প্রেমে এবং বিরহে পড়ে। কদিন আগে সে প্রেম-বিরহের সফল পরিনতি গড়ায় বিয়েতে। মঙ্গলবার এ অভিনেতা নিজের ডায়রির পাতা থেকে ফেসবুকে তুলে ধরেন কিছু দুঃখ কথা। যেখানে তিনি প্রকাশ করেন রিয়েলিটি শো’র প্রতিযোগী হিসেবে ‘এসএমএস ভোট’ কেন্দ্রিক নানা বেদনার কথা।

নিলয়/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
২০০৮। এনটিভি, বিএফডিসি, মার্কেট এক্সেস মিলে শুরু করলো নতুন মুখের সন্ধান 'সুপার হিরো সুপার হিরোইন'। বড় বোনের উৎসাহে অংশগ্রহণ করলাম।
প্রথম তিনটি রাউন্ড উত্তীর্ণ হওয়ার পর শুরু হলো এসএমএস রাউন্ড। পোস্টারিং হলো, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন উঠে পড়ে লাগলো- কিভাবে ভোট বেশি পাওয়া যায়। শুরু হলো কয়েক ঘন্টার ভোট উৎসব।
রেজাল্ট হলো। ১২০০০ (বার হাজার) ভোট পেলাম। বিচারকদের মার্কস ভালো পেয়ে পরের রাউন্ডে গেলাম। সর্ব্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রতিযোগীর মাধ্যমে জানলাম এভাবে ভোট ভিক্ষা করে লাভ নেই।
স্মৃতিকাতর নিলয়/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেনতাহলে কি করলে লাভ হবে? নিজের টাকা দিয়ে মোবাইল কার্ড কিনে তারপর ভোট করতে হবে। তবে এক সিম থেকে ৩০ টার বেশি নয়। শুরু হলো আমার নতুন যুদ্ধ। বন্ধুদের দেখেছি পিকনিকের মত চাঁদা উঠিয়ে ভোট করেছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের মোবাইলে কার্ড ভরে ভোট করেছে। বাকিদের ফোনে জিজ্ঞেস করেছি, বলেছে তারা প্রচুর ভোট করছে আমার জন্য।
রেজাল্ট হলো। ৩৬০০০ (ছত্রিশ হাজার) ভোট পেলাম। যেখানে বাকিরা ৬০/৭০/৮০/৯০ হাজার পেয়েছে। হতাশ হলাম। বন্ধুরা বললো, নিজেদের টাকা দিয়েই তো এর থেকে বেশি ভোট করেছি। অর্থাৎ যারা বলেছে ভোট করবো বা করেছি, তারা আমার জন্য কিছুই করেনি। তারা নিজে ভোট না করে অন্যদের ভোট করার কথা বলেছে। তাই ভোট বাড়েনি, প্রচারণা বেড়েছে! যেটা আমার দরকার ছিলো না।
এরপর আরেকজন অভিজ্ঞ বললেন, ভোটের পেছনে টাকা বা সময় নষ্ট করোনা। পারফরমেন্স ভালো কর, ভোট ব্যাপার না। সেইবার কাউকে ভোট দেওয়ার কথা বললাম না। কারণ ততক্ষনে সবাই ভোট দিতে দিতে বিরক্ত।
রেজাল্ট হলো। সর্বনিম্ন ভোট পেলাম। সংখ্যা মনে নেই। চলে গেলাম ডেঞ্জার জোনে। বিচারকদের ভোটে ফিরে এলাম। আত্মবিশ্বাস বাড়লো।
ফাইনাল রাউন্ড। তেমন বেশি প্রচারণা নেই। টাকা দিয়ে এসএমএস করার তাড়া নেই, কাছের কিছু বন্ধু ছাড়া। ২০০৯ এর ২১ অক্টোবর রেজাল্ট হলো, ভোট এর পরিমান বলেনি তবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে খুশি ছিলাম অনেক। আলহামদুলিল্লাহ।
যারা এসএমএস করেছেন এবং যারা নিজে না করে শুধু অন্যদেরকে এসএমএস করতে বলেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
যখন অনেকের কাছ থেকে শুনি, ‘তোমাকে এসএমএস করে হিরো বানালাম’। তখন ভাবি তাদের ভোটগুলি কোথায় গেল? আমার সামনে বসে যারা এসএমএস করেছে, আমার সামনে যারা নিজের টাকা দিয়ে কার্ড কিনে রাস্তার মানুষের মোবাইল দিয়ে ভোট করেছে, তারা তো কোনওদিন বলেনি আমায়- ‘নিলয় তোকে ভোট করে হিরো বানিয়েছি’।
/এমএম/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ