Vision  ad on bangla Tribune

মুখ খুললেন শফিক তুহিন‘পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে উল্লসিত কি হতে পারি!’

বিনোদন রিপোর্ট১৫:৪৫, মার্চ ১৮, ২০১৬

বৃহস্পতিবার কলকাতার প্রভাশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা’র প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশ হয় বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শফিক তুহিনের একটি ছবি। যে ছবি দিনভর বিভ্রান্তি ছড়ায় অন্তর্জাল দুনিয়ায়। বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন এ শিল্পী। অনেকে বাংলাদেশ ছেড়ে পাকিস্তানেও চলে যেতে বলেছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রিকেট পাগল শফিক তুহিনকে!

সেদিন ইডেন গ্যালারিতে পাকিস্তান শিবিরে এভাবেই গর্জে উঠেছিলেন বাংলাদেশি দুই সমর্থক টাইগার শোয়েব ও শফিক তুহিন।কলকাতার ইডেন গার্ডেনের গ্যালারি থেকে তোলা এ ছবিতে দেখা গেছে পাকিস্তানি সমর্থকদের মাঝে দাঁড়িয়ে শফিক তুহিনের আনন্দ উল্লাস! আনন্দবাজার পত্রিকার ফটো সাংবাদিক শঙ্কর নাগ দাসের তোলা ও ফলাও করে প্রকাশিত এ বিতর্কিত ছবিটির সত্যতা এবং রহস্য উদঘাটন হলো বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। অন্তর্জাল দুনিয়ায় প্রকাশ পেলো সেই ছবিটির পুরো অংশ। যেখানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের কোনও একটা অংশে পাকিস্তানি সমর্থকদের মাঝে গিয়ে বাঘের গর্জন দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন বাংলাদেশের আইকন সমর্থক টাইগার শোয়েব এবং শফিক তুহিন। যে চিত্রের খন্ডিত অংশ প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার। পুরো ছবিটি প্রকাশ হলে এমন বিতর্ক উঠতো না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে শুক্রবার শফিক তুহিন একটি লিখিত বিবৃতি দেন। প্রকাশ করেন তার সঙ্গে সেদিন গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা দুই বাংলাদেশি সমর্থক জুনায়েদ পাইকার ও টাইগার শোয়েবের ভিডিও মন্তব্য।

শফিক তুহিন‘আমি জানি সত্যের জয় হবেই’ শিরোনামে শফিক তুহিনের লেখা বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো হুবহু-
সবাই কম বেশি জানেন, আমি একজন ক্রিকেট পাগল। ঢাকায় খেলা হয়েছে, বাংলাদেশ খেলছে আর শফিক তুহিন নেই, এই দৃশ্য বিরল। কিন্তু কলকাতা, এই তো পা বাড়ালেই পা পড়ে রয় দূরুত্বের কলকাতা, আরাধ্যতম মাঠ ইডেন। বাংলাদেশ যেখানে একটাই মাত্র ম্যাচ খেলেছিল, তাও আজ থেকে ২৬ বছর আগে! সেখানে আবার লাল সবুজ নাচবে, গ্যালারি প্রকম্পিত হবে বাংলাদেশ বাংলাদেশ স্লোগানে, আর বিরোধী শিবিরে থাকবে পাকিস্তান! রচিত হবে আরেকটি গল্প? ইডেনেই? অথচ আমি থাকব না? আমার গায়ে লাল সবুজের জার্সি। সেই জার্সির বুকে বড় বড় হরফে লেখা বাংলাদেশ!
এই বাংলাদেশ বুকে নিয়ে সেদিন আমি, গায়ক মাহমুদ জুয়েলে, টাইগার শোয়েব, বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স এসাসিয়েশনের সব সমর্থক, শূন্য ব্যান্ডের এমিলসহ চেনা অচেনা অনেক মানুষ ইডেনের গ্যালারিতে। ম্যাচ শুরুর আগে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশিরা যখন বুকের ওপর হাত চেপে দাঁড়াল। আমরা গুটিকয় বাংলাদেশি সমর্থক দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে কেমন এক ঘোরের ভেতর ডুবে গেলাম, জাতীয় সংগীত বাজছে, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি...’।
বুকের ভেতর কী এক থইথই কান্নার অনুভূতি, উথালপাতাল ঢেউ, কে জানে, তার খানিকটা চোখের কোল গড়িয়ে পড়েছে কি না! তারপর খেলা শুরু, পাকিস্তানের মুহুর্মুহু ব্যাটিং, আমরা চুপসে যাইনি, তারপরও একটা ডট বলে, একটা ফিল্ডিংয়ে, একটা আউটে আমরা চেঁচিয়েছি। আবার সাব্বিরের আউটের পর বাংলাদেশ থেকে গীতিকার সোমেশ্বর অলি ভাইবারে কল দিয়ে বলেছে, ‘ভাই আপনার বিষন্ন মুখের চেহারা মাত্র টিভিতে দেখলাম।’
সেই আমি, পরদিন ফেসবুকে তাকিয়ে দেখি, নিচের ছবিটি যা ভারতের একটি প্রভাবশালী পত্রিকা ছাপিয়েছে যেখানে আমি পাকিস্তানি পতাকার পেছনে, পাকিস্তানি সমর্থকদের সঙ্গে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দাঁড়িয়ে আছি, উল্লাস করছি! দেখে দীর্ঘ সময় স্তব্ধ হয়ে ছিলাম।

একটি স্থিরচিত্রের একটি বিচ্ছিন্ন ছবির, বিচ্ছিন্ন দৃশ্যের অজস্র অর্থ এবং ব্যাখ্যা দাঁড়াতে পারে! কিন্তু তার একটাও প্রকৃত ঘটনা নাও হতে পারে! এই যুক্তিতে আমি গেলাম না।
কিন্তু ছবি? ছবিটি? আসল সত্যটি হলো ইডেনের ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারিতে সাধারণত সব দেশের মানুষ থাকে; সেদিন খেলা শুরুর আগে অসংখ্য ফটোসাংবাদিক দুই দেশের সমর্থকদের ছবি তোলা শুরু করল। আমিও তার মধ্যে বাংলাদেশের সমর্থক হিসেবে গর্জে উঠেছিলাম।
অথচ পরদিন আনন্দবাজারে আংশিক ছবিটি প্রকাশের পর শুরু হলো দেশ থেকে অজস্র মানুষের ফোন, এসএমএস। ফেসবুকে ছবিটি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেল! আমি থম মেরে বসে রইলাম, কী জবাব দেব এদের আমি? যদি আমি না হয়ে ঠিক একইভাবে পাকিস্তানের পতাকার সাথে আমার দেশের অন্য কারও ছবি এভাবে দেখতাম, আমি নিজেও প্রবল ঘৃণায় আক্রোশে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠতাম।

যেই পাকিস্তান নাম শুনলে উচ্চারণ করতে ঘৃণায় জিভ আড়ষ্ট হয়ে আসে, বুকের ভেতর চোখের ভেতর ভেসে ওঠে ৩০ লক্ষ শহীদের মুখ! ২ লক্ষ ধর্ষিতা মা বোনের কলজে ছেড়া আর্তনাদ। প্রবল প্রতিশোধ স্পৃহায় গনগনে আগুনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শরীর। সেই পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে উল্লসিত আমি কি হতে পারি! আপনারাই একবার ভেবে দেখুন!
বাংলাদেশকে ভালোবাসি, এই অনুভূতি একান্ত নিজের, এই অনুভূতি কারও কাছ থেকে অনুমোদিত করে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না। এই অনুভূতি একান্ত আমার, একান্ত নিজের। এই অনুভূতি কাকে বোঝাব? কীভাবে বোঝাব? কেন বোঝাব?

তারপরও কেবল বুকের ভেতর কষ্ট হয়, কান্না হয়, যখন এই মাটি, এই জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা শরীর, জেগে ওঠা হৃদয়ে, এই মাটির প্রতি কতটুকু ভালোবাসা, কতটুকু মমতা, কতটুকু প্রার্থনা রয়েছে, তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে, তা নিয়ে কেউ সংশয় প্রকাশ করে, তখন কষ্ট হয়। প্রবল ভালোবাসার বিনিময়ে কেউ যখন দ্বিধা আর সংশয় ফিরে পায়, তখন তীব্র কষ্ট হয়, তীব্র কষ্ট। তবে সেই কষ্টরাও জানে, বাংলাদেশ মানেই বুকের ভেতর ছলকে ওঠা রক্ত, সেই রক্তের কণা জুড়ে স্পন্দন, ভালোবাসি বাংলাদেশ! ভালোবাসি!

কলকাতায় থাকাকালীন আমার মা বাবাও দুজনই ছিলেন মেডিকেল চেকআপে। এমন বিব্রতকর ছবি ও খবর প্রকাশের পর ছেলের অস্থিরতা দেখে শুধু এটুকুই বললো বাবা-মা, ‘বাবা মন খারাপ করো না! সত্যের জয় হবেই; আর দেশ মাটি মানুষকে সবসময় ভালোবাসবে- তাহলেই সৃষ্টিকর্তাকে ভালবাসা হবে।
/এমএম/

# দেখে দীর্ঘ সময় স্তব্ধ হয়ে ছিলাম।

লাইভ

টপ