ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংস্কারের ডাক ম্যাক্রোঁ’র

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:১৫, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২০, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সামনে নিজের প্রথম ভাষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জোরালো সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একইসঙ্গে তিনি আঞ্চলিক এ জোটকে ইউরোপের নাগরিকদের সঙ্গে মুক্ত বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর রাজনীতিকদের অন্তর্কোন্দলের সমালোচনা করে একে ‘বোকামি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

ভাষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও শঙ্কা মোকাবিলায় সংস্কারের ডাক দেন ম্যাক্রোঁ। একের পর এক সংকটের মাঝে ইউরোপীয় ঐক্যকে জোরদার করাই ছিল তার ভাষণের সারবত্তা।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, আমাদের জনগণ ইউরোপের আশা ছেড়ে দেননি।

স্ট্রাসবুর্গে তিনি ইউরোপীয় এমপিদের ‘প্রত্যয় ও প্রস্তাবাবলী সম্পর্কে একটি বাস্তবিক বিতর্ক' শুরু করার এবং ‘ইউরোপীয় গণতন্ত্রকে সঞ্জীবিত করে তোলার' আহ্বান জানান। ২০১৯ সালের মে মাসে ইইউ-তে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের পর এটি হবে প্রথম নির্বাচন।

অভিবাসন, ইউরো মুদ্রা এলাকার সংস্কার, ইউরোপীয় ব্যাংকিং প্রণালীর সংস্কার ও একটি ইইউব্যাপী সার্বভৌমত্ব তৈরির ব্যাপারে বিতর্কের ডাক দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নব্যাপী সার্বভৌমত্ব একক সদস্য দেশগুলির সার্বভৌমত্বকে পূর্ণাঙ্গ করবে।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, আজকের ব্যাপক পরিবর্তনের বিশ্বে রাজনীতিকদের তাদের চিন্তাধারা পাল্টাতে হবে। তবে তার অর্থ গণতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করা নয়। এই কঠিন সময়ে ইউরোপীয় গণতন্ত্রই আমাদের সেরা সুযোগ। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের পন্থা ও সত্তা পরিত্যাগ করাটা হবে সবচেয়ে বড় ভুল।

তিনি বলেন, ‘আমরা চতুর্দিকে কর্তৃত্ববাদীদের দেখছি। কর্তৃত্ববাদী গণতন্ত্র নয়, উত্তর হলো গণতন্ত্রের কর্তৃত্ব।

যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মূল্যবোধকে পরিত্যাগ করছে

স্বদেশের ব্যর্থতার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থল ব্রাসেলসকে দায়ী করার প্রবণতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনায় অনিচ্ছার সমালোচনা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এভাবে চলাটা বোকার কাজ। আরামের হলেও এসব দিয়ে কোনও সমস্যার সমাধান হয় না।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের ঘোষিত মূল্যবোধের ফারাকের বাস্তবতায় দুঃখ প্রকাশ করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘ওই দেশটির সঙ্গে আমাদের বহু মিল রয়েছে। কিন্তু তারা বহুপাক্ষিকতা, মুক্ত বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রত্যাখ্যান করছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে পপুলিজমের অভ্যুত্থান নিয়েও কথা বলেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ইতালি ও হাঙ্গেরির সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে এই পপুলিজমের অভ্যুত্থান প্রতিফলিত হয়েছে।

বার্লিনের প্রতীক্ষা

মাস ছয়েক আগে মাক্রোঁ প্যারিসের সর্বন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত একটি ভাষণে ইউরোপ সম্পর্কে তার পরিকল্পনার কথা জানান। এ সময় তিনি ইউরো এলাকার একটি যৌথ বাজেট এবং একজন ইউরোপীয় অর্থমন্ত্রীর পদ তৈরির কথা বলেন। তার পরিকল্পনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে ছিল একটি রাজনৈতিক আশ্রয় দান সংক্রান্ত যৌথ অধিকার, বিভিন্ন দেশের কর ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং একটি ইউরোপীয় দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার এই পরিকল্পনা নিয়ে বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেননি। কেননা, ইইউ-তে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় সহযোগী জার্মানিতে তখন সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন চলছিল। বার্লিনে জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ম্যাক্রোঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে উৎসাহের পরিবর্তে সতর্কতাই বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার বার্লিনে ম্যাক্রোঁ-ম্যার্কেল সাক্ষাতের কথা রয়েছে। গত মাসে দুই নেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংস্কার নিয়ে আগামী জুনের মধ্যে একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানান।

/এমপি/

লাইভ

টপ