প্রাণ বাঁচাতে কোস্টারিকায় আশ্রয় নিয়েছে ২৩ হাজার নিকারাগুয়ান

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:৩৫, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫১, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়ায় সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে রোষের মুখে পড়েছে দেশটির অনেক মানুষ। সরকারি অভিযান থেকে বাঁচতে অন্তত ২৩ হাজার নাগরিক আশ্রয় নিয়েছে পাশ্ববর্তী দেশ কোস্টারিকায়। সেখানেই একটি বাড়িতে অন্তত ৫০ জন মিলে ‘নিজস্ব স্বর্গ’ গড়ে তুলেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। তারা সবাই সরকারের দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সীমান্তের কাছেই অবস্থান তাদের। দিন-রাত পালা করে কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন আর কেউ তাদের রক্ষা করছেন। সেখানে এমন অনেক বাড়ি আছে বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি। সেখানে দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে দিন কাটাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। 

১৯৯০ সালে নিকারাগুয়ার গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এবার সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আছে নিকারাগুয়া। গত বছর ১৬ এপ্রিল দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা অবসরোত্তর ভাতা ও এর তহবিল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরামর্শ মেনে দেওয়া এই ঘোষণায় পেনশন তহবিলে ব্যক্তির অংশ বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণ কমানো হয়।  নিকারাগুয়ার পেনশন তহবিলের একাংশ বিনিয়োগ করা হয় ওর্তেগা সরকারের কর্তাব্যক্তিদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে, যা আগামী আগস্টেই দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীরা। ডাক দেয় আন্দোলনের।মাসব্যাপী চলা এই আন্দোলনে উত্তাল হয়ে পড়ে নিকারাগুয়া।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যরাও সরকারবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়। আন্দোলনকারীদের ওপর সরকারি বাহিনর সশস্ত্র হামলা চলতে থাকে। বিক্ষোভকারীরাও পাথর আর হাতে তৈরি মর্টার দিয়ে পাল্টা হামলা চালাতে থাকে। সরকারি অভিযানে প্রাণ হারান অনেকে। সেসময় অনেকে দেশ ছেড়ে পালাতেও বাধ্য হন।

কোস্টারিকায় একটি শহরে তেমন ৫০ জন ‘পলাতক আসামি’ এক বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ছোট বাড়িটি তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তারা সবাই দেশে ফিরে যেতে চান। যেই নারী সেই বাড়িটি দেখাশোনা করে তিনি ‘গডমাদার’ হিসেবে পরিচত। প্রকৃত নাম লিসেথ ভালদিভিয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্লান্ত। আমরা বাড়ি ফিরে যেতে চাই।’ তিনি বলেন, দুই সন্তানের এই জননী চাকরি করতেন, জিম করতেন, স্কুটি চালাতেন। সুন্দরভাবেই চলছিলো তার জীবন। কিন্তু এপ্রিলের পরই সব পাল্টে যেতে শুরু করে।

নিকারাগুয়ানদের অভিযোগ, ২০০৭ সাল থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওর্তেগা স্বৈরাচারী আচরণ করছেন। কিন্ত রাজপথে আন্দোলনের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পুলিশ ও সরকারি বাহিনীর অভিযান শুরু করলে পালাতে বাধ্য হয় হাজার হাজার মানুষ।

ভালদিভিয়া বলেন, তিনি বিস্মিত যে কেন কেউ তাদের সহায়তা করলো না। তিনি বলেন, ‘তার এক প্রতিবেশীকে গুলি করা হয়। এরপর আরেকজনকে, এরপর তৃতীয়জনকে। তিনি পালিয়ে যান। দুই মাস ধরে মানবিক কমান্ড পোস্টে আশ্রয় নেন। একটা সময় দেশ ছাড়েন। তবে এখনও বাড়ি ফিরতে চান তিনি। তিনটি ব্যবসা, একটি বাড়ি, একটি গাড়ি, স্কুটার রেখে এসেছেন। নিজের সাত বছরের সন্তানকেই নিরাপত্তার খাতিরে সঙ্গে আনতে পারেননি।

ওই বাড়িতে থাকা ১৩ বছর বয়সী স্যামুয়েল বলেন, আমরা আত্মসমপর্ন করিনি। নিজের বাবাবর সাথে পায়ে হেটে পালিয়ে এসেছেন তিনি। তবে এখনও স্বপ্ন দেখেন ফিরে যাওয়ার। তার বাবা বলেন, ‘আমরা সবাই একদিন ফিরে যাবো।

নিকারাগুয়া সরকারের দাবি, এই আন্দোলনকারী সন্ত্রাসী ‍ও খুনি। শিক্ষার্থীরা সরকারের অর্থনীতি ধ্বংস করতে চেয়েছিলো। দেশটির মানবাধিকার সংস্থাও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। গত বছরের মে মাসে সরকার বিরোধী আন্দোলনে ৮০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সরকারকে দায়ী করেছে ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।  এখনও দেশটিতে গ্রেফতার রয়েছে অন্তত ৫৬৫ জন। অনেকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ।  

ভালেদেভিয়ার আশা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের দেখছে। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে। ট্রাম্প অবশ্যই কিছু করবেন। আমরা সবাই ফিরে যাবো। যদি দেশে পাথর ছাড়া কিছু নাও থাকে, তারপরও।

/এমএইচ/

লাইভ

টপ