মুসলমানদের ওপর শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীদের যতো হামলা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৫৬, মার্চ ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০১, মার্চ ১৬, ২০১৯

বিশ্বজুড়ে উগ্রজাতীয়তাবাদী ও শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ শিকার নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদ। গত আট বছরে বিশ্বজুড়ে শেতাঙ্গ সন্ত্রাসীদের বন্দুকহামলা, বোমা বা গাড়ি হামলার জন্য মসজিদ ও মুসলমানদের বেছে নিয়েছে। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ হুমকির মুখে পড়েছে-এমন উদ্ভট বিশ্বাস থেকে চালানো সর্বশেষ হামলায় শুক্রবার নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নির্বিচার গুলিবর্ষণে নিহত হয়েছেন ৪৯ জন। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের এই উগ্র ধারণায় মুসলিম অভিবাসীদের প্রধান হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।

গত কয়েক বছর ইসলামবিদ্বেষ থেকে পরিচালিত এসব হামলা কোনও নির্দিষ্ট শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীদের গোষ্ঠী চালায়নি। কিন্তু হামলাকারী সবাই একই বৈশ্বিক বর্ণবাদী প্রচারণা থেকে অনুপ্রাণিত। এসব হামলাকারীরা সবাই তত্ত্বে বিশ্বাসী আর তারা প্রায় প্রত্যেকেই আগের হামলাকারী থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা প্রচার করেছে।

অক্টোবর ২০১৫সুইডেনের ট্রোলহাটনের স্কুলে হামলায় নিহত ৩

অভিবাসী শিক্ষার্থী অধ্যুষিত একটি স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানায় হামলাকারী। পুলিশ জানায় অপেক্ষাকৃত বাদামী রংয়ের চামড়া অধিকারীদের লক্ষ্য করে শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের ছুরিকাঘাত করে সে। তিন জন মারা যায়। নিহতদের মধ্যে ছিলো ১৫ বছর বয়সী আহমেদ হাসান। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এই শিশুটি কয়েক দিন আগেই সুইডেনে এসেছিলো।

জানুয়ারি ২০১৭কানাডার কুইবেকে মসজিদে হামলায় নিহত 

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কানাডার কুইবেক অঙ্গরাজ্যের এক মসজিদে সদ্য নামাজ শেষ করা মুসল্লিরা যখন বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন ২৯ বছর বয়সী বিসোনেত্তে নামের ব্যক্তি তাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। বন্দুক হামলাকে প্রতিহত করতে গিয়ে নিহত হয় আজেদাইন সৌফিয়ান নামে এক ব্যক্তি। ওই হামলায় আহত হয় আরও ১৯ জন। বন্দুকধারী বলেছিলো জাস্ট্রিন ট্রুডো কানাডায় শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়ে টুইট করায় ও ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে হামলা চালাতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলো সে। হামলাকারীর দাবি ছিলো, শরণার্থীরা তা পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতে পারে বলে সে ভয়ে ছিল।  

ওই সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছিলেন। কিন্তু হামলাকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া বিচারক তার রায়ে বলেছেন, এটি সন্ত্রাসী হামলা নয়। বরং অভিবাসীদের কানাডার সংশ্লিষ্ট প্রদেশে দেখতে না চাওয়ার বর্ণবাদী মানসিকতার কারণে অভিযুক্ত হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। তার আগে থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীনতা ছিল। আত্মহত্যা করতে চাওয়া ওই ব্যক্তি নারীবাদীদের ওপরও হামলা চালাতে চেয়েছিল।

মে ২০১৭:  যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডে ছুরিকাঘাতে নিহত ২

একটি পাবলিক ট্রেনে একদল তরুণ নারীর মুসলিম বিরোধী গলাবাজি থামাতে বলায় দুই জনক হত্যা ও অপর একজনকে আহত করা হয়। তাদের অভিযুক্ত হত্যাকারী আদালত কক্ষে চিৎকার করে বলেছিলো, ‘স্বাধীনভাবে কথা বলতে দাও নইলে মরো। তুমি একে সন্ত্রাসবাদ বলতে পারো, আমি এটাকে দেশপ্রেম বলবো’।

জুন ২০১৭: যুক্তরাজ্যে ফিনসবারি পার্কে মুসল্লিদের ওপর গাড়ি চালিয়ে হামলায় নিহত ১

যুক্তরাজ্যের ফিনসব্যুরি পার্কের বাইরে একটি মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের ওপর চালিয়ে দেওয়া ভ্যানের চাপায় নিহত হয় মুকাররম আলি ও অপর ১২ জন আহত হয়

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, ড্যারেন অসবর্ন নামের হত্যাকারী ভ্যান হামলার পর  চিৎকার করে বলেছিলো, ‘আমি সব মুসলমানকে মারতে চাই-অল্প কয়েকজনকে মারলাম’। বিচারক আদালতে বলেছিলেন অনলাইনে উগ্রবাদে আকৃষ্ট হয়েছিলো সে। টুইটারে ডানপন্থী এক প্রখ্যাত ব্যক্তির মুসলিম বিরোধী প্রচারণা থেকে উগ্রবাদে তার আগ্রহ তৈরি হয় বলে আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো।

জুন ২০১৭: পূর্ব লন্ডনে ব্রিটিশ মুসলিম মডেলের ওপর এসিড হামলা

গত ২১ জুন পূর্ব লন্ডনের বেকটনে ব্রিটিশ মুসলিম মডেল রেশাম খান (২১) এবং তার চাচাতো ভাই জামিল মুখতারের (৩৭) ওপর এসিড হামলা হয়। তাদের গাড়ি যখন ট্রাফিক সিগন্যালে অপেক্ষমান তখন জানালা দিয়ে এসিড ছুড়ে মারে এক দুর্বৃত্ত। আর তাতে প্রচণ্ডরকমের দগ্ধ হন দুইজনই। ঝলসে যায় মুখ, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ। রেশাম ও জামিলের ওপর এসিড নিক্ষেপকে মুসলিমবিদ্বেষী হামলা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

 

/জেজে/এএ/

লাইভ

টপ