চীনের পরিণতি আরও খারাপ হবে: ট্রাম্প

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:২৬, মে ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৫, মে ১২, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত না হলে চীনের পরিণতি আরও খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চীনকে হয় এখনই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। অন্যথায় ২০২০ সালের পর এটি আরও খারাপ হবে। শুক্রবার কোনও চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনা শেষ হওয়ার পর তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

শনিবার টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হচ্ছে চীন এটা অনুভব করতে পারছে যে, সাম্প্রতিক আলোচনায় তারা ব্যাপক মার খেয়েছে। নিজেদের সৌভাগ্য দেখতে তাদের হয়তো ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বছরের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা করতে পারে।

নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে চুক্তি হলে সেটি চীনের জন্য এখনকার চেয়েও বেশি খারাপ হবে বলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন ট্রাম্প। কঠিন শুল্ক এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পণ্য উৎপাদনেরও পরামর্শ দেন তিনি।

টুইটারে ট্রাম্প বলেন, একমাত্র সমস্যা হচ্ছে তারা জানে আমি জিততে চলেছি। আমার দ্বিতীয় মেয়াদে যদি এই চুক্তির (যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি) ব্যাপারে সমঝোতা হয় তাহলে সেটি আরও খারাপ হবে। তাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে বড় অঙ্কের শুল্ক না মাড়িয়ে এখনই চুক্তিটি সম্পাদন করা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ‍দুই দিনব্যাপী বাণিজ্য আলোচনা দৃশ্যত উল্লেখযোগ্য কোনও অর্জন ছাড়াই শুক্রবার শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটনে আলোচনা শেষে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনও চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনা ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী স্টিভেন মানচিন। চীনের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান আলোচক লিউ হে। ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটথাইজার-ও এতে অংশ নেন।

শুক্রবার বাণিজ্য আলোচনা চলাকালেই চীন থেকে আমদানিকৃত ২০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে এসব চীনা পণ্যের জন্য ১০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু নতুন ঘোষণার কারণে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ২৫ শতাংশ হারে বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বেইজিং বলেছে, তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এতে করে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের একটি ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে বাড়তি শুল্ক আরোপ রীতিমতো বিস্ময়কর। চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে একযোগে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করেছিল বেইজিং।

এদিকে আরও ৩২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব কেমন তা কিছুটা এড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প। তবে কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের জন্য শুল্ক বাড়ানোটা একটা ধাক্কার মতো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এশিয়ান ট্রেড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডেবোরাহ এলমস বলছেন, ‘এটা অর্থনীতিতে একটা বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সব মার্কিন প্রতিষ্ঠানের হঠাৎ করে ২৫ শতাংশ খরচ বেড়েছে। আবার চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।’

কেউ কেউ মনে করছেন, চীন এখনও আলোচনার চেষ্টা করবে। কারণ বাণিজ্য যুদ্ধ থামানো খুবই জরুরি। পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের গ্যারি হাফবাউর বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধ চীনের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। এছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও এর ফল খারাপ হবে। তাই বেইজিংয়ের উচিত হবে ক্ষুব্ধ না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় সমাধান করা।

/এমপি/এমএমজে/

লাইভ

টপ