যুক্তরাজ্যের জন্য এর চেয়ে ভালো ব্রেক্সিট চুক্তি নয়: জার্মান মন্ত্রী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪০, জুন ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১০, জুন ১১, ২০১৯

ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা খসড়া চুক্তি পার্লামেন্ট বাতিল করে দেওয়ায় ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ৭ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও উত্তরসূরি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকছেন তিনি। থেরেসা মে’র জায়গায় যিনি স্থলাভিষিক্ত হবেন; তাকেও নতুন চুক্তির পথে হাঁটতে হবে। তবে মঙ্গলবার জার্মানির ইউরোপ ব্ষিয়ক মন্ত্রী মাইকেল রথ বলেছেন, যুক্তরাজ্যের জন্য এর চেয়ে ভালো ব্রেক্সিট চুক্তি হতে পারে না। দেশটির সঙ্গে ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন করে চুক্তি করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্য দেশগুলো প্রস্তুত নয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

জার্মানির ইউরোপ ব্ষিয়ক মন্ত্রী মাইকেল রথ বলেন, পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যিনিই হন না কেন; পুনরায় আলোচনা করতে ইউরোপ প্রস্তুত নয়। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না।

আগামী জুলাইয়ের শেষদিকে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন করা হতে পারে। নবনির্বাচিত নেতাই পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসহ ১১ কনজারভেটিভ এমপিকে সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হয়েছে।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসা) পক্ষে রায় আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন থেরেসা। গত তিন বছর ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ রাত ১১টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ত্যাগের কথা ছিল যুক্তরাজ্যের। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের শর্ত নির্দিষ্ট করে তৈরি হয় ব্রেক্সিট চুক্তি। এ চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও থেরেসা মে তিন দফায় তা হাউস অব কমন্সে পাস করাতে ব্যর্থ হন। তবে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে সমর্থ হন তিনি। ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যদের রাজি করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাতে সফলতা পাননি থেরেসা। এ অবস্থায় মে মাসের শেষের দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। জানান, ৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৭ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন থেরেসা। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকলেও ব্রেক্সিট প্রশ্নে তার কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

গত মে মাসে দেওয়া পদত্যাগের ঘোষণায় থেরেসা বলেছিলেন, তিনি না পারলেও তার উত্তরসূরি হয়তো পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতা সৃষ্টি করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সমঝোতা কেবল তখনই সম্ভব যখন বিতর্করত সব পক্ষ আপস করতে রাজি হবে।’

আবেগপূর্ণ ভাষায় থেরেসা মে বলেন, ‘অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আমি আমার কাজ ছেড়ে দেবো। কিন্তু যে সম্মান আমি নিয়ে যাচ্ছি তা সারা জীবন ধরে রাখবো। দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলাম কিন্তু অবশ্যই শেষ নারী প্রধানমন্ত্রী হবো না।’

ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আমি কিছু করিনি।

/এমপি/

লাইভ

টপ