ট্যাংকার বিস্ফোরণে ইরানের যোগসাজশের প্রমাণ নেই: করবিন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৫৭, জুন ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৯, জুন ১৫, ২০১৯

ওমান উপসাগরে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানের যোগসাজশের কোনও প্রমাণ নেই। শুক্রবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

জেরেমি করবিনইতোমধ্যেই তেলবাহী ট্যাংকারে এ হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে দায়ী করেছে মার্কিন ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। তবে এর কোনও প্রমাণ নেই উল্লেখ উত্তেজনা আর না বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান করবিন।

দুই তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে দায়ী করার পর যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকেও একই রকমের বক্তব্য আসে। নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে শুক্রবার এ ঘটনায় ইরানের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি প্রায় নিশ্চিত যে ১৩ জুন ইরানের সামরিক বাহিনী দুই ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কোনও রাষ্ট্র বা পক্ষের জড়িত থাকার কোনও আশঙ্কা নেই।

ব্রিটিশ সরকারের এমন প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন করবিন।

টুইটারে দেওয়া পোস্টে করবিন বলেন, সামরিক ব্যবস্থা উস্কে দেওয়ার বদলে যুক্তরাজ্যের উচিত উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া। ট্যাংকারে হামলার সঙ্গে তেহরান জড়িত থাকার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া সরকারের বাগাড়ম্বর শুধু যুদ্ধের হুমকিই আরও বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানকে দায়ী করার কয়েক মিনিট আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দেশ শিগগিরই ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসবে। তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে-র সঙ্গেও কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী ঘোষণা দেন, তার বার্তা পাওয়ার জন্য ট্রাম্প উপযুক্ত বা যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নন।

অন্যদিকে ওমান উপসাগরে তেলবাহী দুই ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যরা জাপানের মালিকানাধীন কোকুকা কারেজিয়াস নামক ট্যাংকার থেকে অবিস্ফোরিত মাইন সরিয়ে নিচ্ছে। বিস্ফোরণের কবলে পড়া দুই ট্যাংকারের একটি এটি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলাস্থল থেকে আলামত সরানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই কাজ করেছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ট্যাংকার দুটির একটি মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার এবং অপরটি পানামার পতাকাবাহী কোকুকা কারেজিয়াস। ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার নরওয়ের মালিকানাধীন আর কোকুকা জাপানের মালিকানাধীন। বিস্ফোরণের পর দুই ট্যাংকার থেকে ৪৪ জন ক্রু-কে উদ্ধার করে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের কারণ জানা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এর জন্য ইরানকে দায়ী করছে।

ঘটনার পর চার জন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন তাদের কাছে ওই হামলার ছবি আছে। ওই কর্মকর্তাদের একজন জানান, ভিডিওটি মার্কিন সামরিক বিমান থেকে ধারণ করা। সেখানে দেখা যায়, একটি ছোট নৌকা জাপানি ট্যাংকারের পাশে এসে দাঁড়ায়। একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ট্যাংকার থেকে কিছু সরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই বস্তুটি অবিস্ফোরিত মাইন। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ ও একটি ড্রোন থাকার পরও সেখানে নৌকাটি অবস্থান করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলার প্রমাণ মুছে ফেলতেই সেখানে গিয়েছিলো সেটি।

আরেকজন কর্মকর্তা সিএনএন’র কাছে দাবি করেন, ঘটনার সময় সেখানে বেশক’টি ইরানি ছোট নৌকা প্রবেশ করেছিল। এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস বেইনব্রিজ কিংবা এর মিশনের ওপর কোনও রকম হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ইউএসএস বেইনব্রিজ কোকুকা কারেজিয়াসের কর্মীদের সহায়তা করছে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট ট্যাংকার ওনার্স বলছে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা বলে সন্দেহ করছে তারা। জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোনাথান কোহেন বলেন, এটা এই অঞ্চলে ইরানের সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার আরেকটি উদাহরণ। তবে ইরানি মিশন এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। মিশনের মুখপাত্র আলিরেজা মিরইউসেফি বলেন, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছে। এই হামলার সর্বোচ্চ নিন্দা জানাই আমরা।’ তিনি বলেন, এই সন্দেহজনক ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, সিএনএন।

/এমপি/

লাইভ

টপ