তৃণমূল আইনপ্রণেতা মহুয়ার বিরুদ্ধে জি নিউজের পাল্টা মামলা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:১৭, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৯, জুলাই ১৯, ২০১৯

লোকসভা অধিবেশনের শুরুর দিনেই নিজের ভাষণের মধ্য দিয়ে সাড়া জাগিয়েছিলেন তৃণমূলের আইনপ্রণেতা মহুয়া মৈত্র। ২৫ জুনের সেই ভাষণের ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এ সংক্রান্ত জি নিউজের এক টেলিভিশন শো’তে চ্যানেলটির এডিটর ইন চিফ সুধীর চৌধুরী মহুয়ার ভাষণকে ‘নকল’ (অন্য সূত্র থেকে চুরি করা) আখ্যা দেন। মহুয়া সেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল ও সুধীরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন। এবার  চ্যানেলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের  অভিযোগ তুলে মহুয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে জি-নিউজ কর্তৃপক্ষ।

মহুয়া মৈত্র

২৫ জুন লোকসভায় 'ফ্যাসিবাদের সাত লক্ষণ' শীর্ষক বক্তব্য পেশ করেন মহুয়া। ভাষণে তিনি দাবি করেন, ভারতে ফ্যাসিজমের প্রতিটি চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন ইহুদি গণহত্যার স্মারক জাদুঘরের একটা পোস্টার দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা ইতিহাসের কোন অংশ হতে চাই... যে পক্ষ সংবিধানের সমর্থক নাকি যে পক্ষ হয়ে উঠেছে সংবিধানের শববাহক।''

মহুয়ার সেই বক্তব্যকে ঘিরে জি নিউজে সুধীর চৌধুরীর সম্প্রচারিত এক শো-তে অভিযোগ করা হয়, সংসদে দেওয়া ভাষণের বক্তব্য মহুয়ার নিজের নয়। তা 'কপি পেস্ট' করা হয়েছে অন্য একটি প্রতিবেদন থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গে সেই প্রতিবেদন লিখেছিলেন মার্টিন লংম্যান। এ ঘটনায় মহুয়ার দায়ের করা মানহানির মামলায় আদালতে তার আইনজীবী শাদান ফরাসত বলেন, মার্কিন মিউজিয়ামের একটি হলোকাস্ট পোস্টার দ্বারা অনুপ্রাণিত মহুয়ার সেই ভাষণ। সেই পোস্টারে ফ্যাসিবাদের ১৪টি লক্ষণের কথা বলা ছিল। ফরাসতের কথায়, 'এটা খুবই জনপ্রিয় পোস্টার। মহুয়া তার থেকে সাতটি লক্ষণ নিয়ে তা ভারতের উপর প্রয়োগ করে বক্তব্য রেখেছিলেন।' মহুয়ার আইনজীবীর দাবি, ওই বক্তব্য যে মার্কিন পোস্টার থেকে নেওয়া, তাও সংসদে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন মহুয়া। 

জি নিউজ ও সুধীরের বিরুদ্ধে মহুয়ার দায়ের করা মানহানির মামলায় মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট প্রীতি পারেওয়া সমন পাঠানোর আগের প্রমাণের জন্য ২০ জুলাই মহুয়ার বয়ান রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তার আগেই মহুয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করলো জি নিউজ কর্তৃপক্ষ। আইনজীবী বিজয় আগরওয়ালের মাধ্যমে দায়ের করা অভিযোগে সংস্থার পক্ষে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই মহুয়া তাদের সংস্থার বিরুদ্ধে অবমাননামূলক মন্তব্য করেন। তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে বেশ কিছু মিথ্যা, অপমানজনক, অনর্থক মন্তব্য করেছিলেন ওইদিন। অভিযোগে দাবি করা হয়, ওই বিবৃতিতে যা বল‌া হয়েছিল, তা অত্যন্ত অবমাননামূলক ও সংস্থার ভাবমূর্তির পক্ষেও ক্ষতিকারক। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারা এনে অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

/বিএ/

লাইভ

টপ