যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে আরেক বাংলাদেশি গ্রেফতার

Send
ব্রজেশ উপাধ্যায়, ওয়াশিংটন
প্রকাশিত : ২৩:০১, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৩, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হুস্টনের জর্জ বুশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিলন মিয়া নামের এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েকদিনের ব্যবধানে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচারের অভিযোগে দ্বিতীয় বাংলাদেশিকে গ্রেফতারের ঘটনা। গত সপ্তাহে মানবপাচারকারী চক্রে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আরেক বাংলাদেশি মোখতার হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

৩১ আগস্ট মিলন মিয়াকে গ্রেফতার করা হলেও বুধবার তার বিরুদ্ধে আনীত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মেক্সিকোর তাপাচুলার বাসিন্দা মিলন মিয়াকে হুস্টন বিমানবন্দরে অবতরণের পরই গ্রেফতার করা হয়। মিলন মিয়া তাপাচুলাতে একটি হোটেল পরিচালনা করত। এই হোটেলেই সে অবৈধ ভিনদেশিদের স্থান দিত। সে তাদের উত্তর মেক্সিকোর একটি স্থানের বিমান টিকিট সরবরাহ করত এবং সেখানে গিয়ে ভিনদেশিরা অন্য পাচারকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করত, যারা তাদের যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে পাঠাত।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত মিলন মিয়া টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তে অর্থের বিনিময়ে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার বা পাঠানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।

সান অ্যান্তোনিওতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তদন্তের দায়িত্বে থাকা স্পেশাল এজেন্ট শ্যেন ফল্ডেন বলেন, মিলন মিয়াকে গ্রেফতারের ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ যৌথ উদ্যোগের প্রমাণ। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হওয়া যে কোনও আন্তঃদেশীয় অপরাধীচক্রকে তদন্ত ও উৎখাত করতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

মানবপাচারবিরোধী এই তদন্ত পরিচালিত হয় এক্সট্রাটেরিটরিয়াল ক্রিমিনাল স্ট্রাইক ফোর্স কর্মসূচির অধীনে। যা যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন ও আইন মন্ত্রণালয়ের অপরাধ শাখা যৌথভাবে গড়ে তুলেছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের অপরাধ শাখার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান বেনজোকভস্কি বলেন, এই গ্রেফতারের ঘটনা তাদের প্রতি আইন মন্ত্রণালয়ের শক্তিশালী বার্তা, যারা নিজেদের সুবিধার জন্য আমাদের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র করে। তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

৩১ আগস্ট মিলন মিয়াকে ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেনা এইচ. পালমেরোর আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে লারেডোতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন ফৌজদারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য। লারেডো শহরটি টেক্সাসের যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবস্থিত। এখানকার কারাগারগুলোতে নথিবিহীন বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সীমান্তের চেয়ে বেশি।

২০১৮ অর্থবছরে লারেডো সীমান্ত সেক্টরে ৬৬৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করে। যা ২০১৭ সালের তুলনায় ২৭০ শতাংশ বেশি। কর্মকর্তারা বলছেন, এই অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছার জন্য মানবপাচারকারীদের ২৭ হাজার ডলার দেয়।

 

/এএ/

লাইভ

টপ