পাকিস্তানে আলোচিত ‘অনার কিলিং’র ঘটনায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৩১, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩২, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

পাকিস্তানের অন্যতম আলোচিত 'অনার কিলিং'-এর ঘটনার মামলায় তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ২০১১ সালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গান গাওয়া ও হাততালি দেওয়ার কারণে তিন নারীকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই হত্যার ঘটনায় আদালত ওমর খান, সাবির ও সাহির নামের তিন ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনওয়ালা প্রদেশের একটি আদালত পাঁচজন পুরুষকে এ ঘটনার অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন।

নিহতদের মৃতদেহ কখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই অনুষ্ঠানে নিহত নারীদের সঙ্গে থাকা দুইজন পুরুষ এখনও পলাতক। ওই ঘটনার সাথে জড়িত আরো দু'জন নারীর ভাগ্যে কী হয়েছে- তাও  জানা যায়নি। ওই হত্যাকাণ্ডের পর সহিংস সংঘাতে আরো চারজন নিহত হয়।

২০১১ সালে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে দেখা গেছে কয়েকজন নারী- যাদের নাম বাজীগা, সিরিন জান, বেগম জান ও আমিনা - একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গান গাইছেন এবং হাততালি দিচ্ছেন। শাহিন নামের ১৮ বছরের কম বয়সী একজন নারীও সেখানে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই ভিডিওতে একজন পুরুষকেও নাচতে দেখা যায়। যদিও ওই পুরুষ ও নারীদের কখনোই এক ফ্রেমে দেখা যায়নি। ভিডিওটি ধারণ করছিলেন আরেকজন পুরুষ।

এই অপরাধেই ওই তিন নারীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তাদের পরিবারের সদস্যরাই। উত্তর কোহিস্তানের দূর্গম অঞ্চলের মানুষ পরিবারের সম্মানের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোর সুরাহা করে রক্তের বিনিময়েই। স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী, কোনও নারীর বিরুদ্ধে বিবাহরীতির পরিপন্থী কোনো কার্যক্রমে জড়ানোর অভিযোগ উঠলে- তা যত তুচ্ছই হোক না কেন- তার পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ওই নারীকে হত্যা করে, পরে অভিযুক্ত পুরুষকে হত্যা করে। যেই পুরুষকে হত্যা করা হবে, তার পরিবারও রীতি মোতাবেক বাধা দিতে পারবে না। ফলে ওই ভিডিওতে যতজনকে দেখা গিয়েছিল, তাদের সবারই জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এই ঘটনা জানাজানি হয় ২০১২ সালে, যখন ভিডিওর সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তির একজনের ভাই আফজাল কোহিস্তানি তার ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে রীতি লঙ্ঘন করে নারীদের হত্যার অভিযোগ তোলেন। বিচারের দাবিতে আফজাল কোহিস্তানির করা প্রচারণা সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সুপ্রিম কোর্ট হত্যাকাণ্ডের একটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীরা ওই দুর্গম গ্রামে পৌঁছানোর জন্য দুই দিন পাহাড়ি পথে ট্রেক করেন এবং স্থানীয়দের বক্তব্য নেন।

ওই সময় স্থানীয়রা তাদেরকে তিনজন নারীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে জানালেও পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়। অবশেষে ২০১৯ সালে ওই তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা গ্রহণ করে।

বাজিগা'র বাবা সাবির, সিরিন জানের বাবা সাহির এবং বেগম জানের ভাই ওমর খানকে এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু যার কারণে এই অনার কিলিংয়ের ঘটনা পাকিস্তানজুড়ে আলোচিত হয় সেই আফজাল কোহিস্তানি এই রায় দেখে যেতে পারেননি। মুখ খোলার কারণে ২০১৩ সালে তার তিন ভাইকে হত্যা করা হয়, তার বাড়ি পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ওই সময় এসব হত্যার দায়ে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হলে পরে সবাই নির্দোষ প্রমাণিত হন। এবছরের মার্চে উত্তর-পশ্চিমের শহর অ্যাবেটাবাদে গুলি করে হত্যা করা হয় আফজাল কোহিস্তানিকে। তার অন্য ভাইয়েরা আজো পলাতক। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

 

 

/এএ/

লাইভ

টপ