দুই অস্ট্রেলীয় ব্লগারকে মুক্তি দিলো ইরান

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৩৮, অক্টোবর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪২, অক্টোবর ০৫, ২০১৯

অস্ট্রেলীয় ব্লগার জোলি কিং ও তার ছেলেবন্ধু মার্ক ফার্কিনকে মুক্তি দিয়েছে ইরান। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খারিজ করা হয়েছে। তিন মাস আগে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তেহরান থেকে ওই দুই ব্লগারকে আটক করা হয়েছিল।

২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে বিদেশযাত্রা শুরু করেন কিং ও ফার্কিন। তারা প্রামাণ্যচিত্র তৈরির জন্য ভ্রমণ করেন। আর এগুলো তুলে ধরেন ‘দ্য ওয়ে ওভারল্যান্ড’ নামের একটি ব্লগে। তিন মাস আগে তারা ড্রোন উড়িয়ে তেহরানের জাজরুদ এলাকার সামরিক স্থাপনার কিছু ছবি ধারণ করছিলেন। ওই এলাকায় রয়েছে ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার। ড্রোন উড়িয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সে সময় তাদের আটক করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ইরানে ড্রোন উড্ডয়ন করতে হলে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়, মানতে হয় কঠোর বিধিনিষেধ। স্পর্শকাতর এলাকা, তেহরান নগরী, বিপুল জনাকীর্ণ বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ নাগরিকরা ড্রোন উড্ডয়ন করতে পারেন না। অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড্ডয়নের দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে দেশটিতে।

জোলি যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈত এবং মার্ক ফার্কিন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তারা বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পর আমরা খুশি ও স্বাধীন বোধ করছি।’

অসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ব্যাপক স্বস্তির সঙ্গে ঘোষণা করছি তারা মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।’ কিং ও ফার্কিনের মুক্তির ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে ‘খুবই স্পর্শকাতর’ আলোচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। তারা বন্দি থাকার সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা করেছিল ক্যানবেরা।

ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইয়েলিকে উদ্ধৃত করে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, তাদের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বন্দি করা হয়েছিল।

সম্প্রতি ইরানে দ্বৈত নাগরিকদের আটকের সংখ্যা বাড়তে থাকার ঘটনাকে কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন পশ্চিমা বিশ্লেষকরা। গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বিতর্কিত মার্কিন মিশনে মাঝারি মাত্রায় পৃষ্ঠপোষকতার ঘোষণা দেন। যাতে একটি যুদ্ধজাহাজ এবং পি-৮ নৌ নজরদারি বিমান এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি। এই মিশনে ব্রিটেনও রয়েছে।

গত মাসের শুরুতে ইরান সফরের ক্ষেত্রে নাগরিকদের অপরিহার্যতা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়ে ভ্রমণ নির্দেশনা হালনাগাদ করে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া সে সময় ইরাক ও আফগানিস্তান সীমান্তে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কুখ্যাত কারাগার এভিন। রাজনৈতিক বন্দি, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দায়ে অভিযুক্তদের সেখানে রাখা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির শীর্ষ পরিবেশবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইয়্যেদ ইমামি এভিন কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মারা যান।

/এইচকে/এমপি/

লাইভ

টপ