ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা শুরু

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:০৬, নভেম্বর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

ভারতের বহুল আলোচিত বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা) মামলার রায় পড়তে শুরু করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। রায় ঘোষণার পর সবাইকে শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ রায় ঘোষণাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০ অক্টোবর থেকে অযোধ্যা শহরে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। রবিবার থেকে শহরে জারি হচ্ছে কারফিউ।

দীর্ঘ শুনানির পর ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল বাবরি মসজিদের ভূমি তিন ভাগে ভাগ করে বণ্টনের আদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনায় মুসলিম ওয়াকফ বোর্ড, নিরমাজি আখড়া আর রামনালা পার্টিকে সেখানকার ২ দশমিক ৭ একর জমি সমানভাগে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। হিন্দু-মুসলিম দুই পক্ষই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিল। শুনানি চলেছিল লাগাতার ৪০ দিন। শুনানির শেষে রায় সংরক্ষিত করে রাখে শীর্ষ আদালত। শুক্রবার (৮ নভেম্বর)  ঘোষণা আসে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেই রায় ঘোষণা শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করছে। পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা শেষ হবে ভারতীয় সময় সকাল ১১ টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টা)। প্রধান বিচারপতি ছাড়া আর যারা এই বেঞ্চে আছেন বিচারপতি এসএ বোবদে,ডিওয়াই চন্দ্রচূড়,অশোক ভূষণ ও এস আব্দুল নাজির। শীর্ষ আদালতের এক নম্বর কক্ষে রায় চলছে। স্থানীয় সময় ১০টা ১৫ মিনিটে সেই ঘর খুলে দেওয়া হয়। তার পর বিচারপতিরা সেই ঘরে প্রবেশ করেন। এর পর রায়ের কপিতে সই করে রায় পড়তে শুরু করেন প্রধান বিচারপতি। 

অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি বাবরি মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলার পর ভারতে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় কমবেশি দুই হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। মসজিদটির জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটি গুঁড়িয়ে দেয় কট্টরপন্থী হিন্দুরা। তাদের দাবি, বাবরি মসজিদের জায়গাতেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল। রামমন্দির ভেঙ্গে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। তবে মুসলিমরা বলছে, মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির কোনও প্রমাণ নেই। তাদের দাবি, ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বলপূর্বক ঐতিহাসিক মসজিদটি ভেঙে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। তাই সেখানে মসজিদটি পুনঃস্থাপনই যৌক্তিক। পড়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

ভারতের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘিরে সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক টুইটবার্তায় লিখেছেন, ‘অযোধ্যার রায়ে কারও জয় বা পরাজয় হবে না। দেশের নাগরিকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শান্তি বজায় রাখা।’

রায় ঘোষণার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাবরি মসজিদ যেখানে অবস্থিত, সেই উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে আধা সামরিক বাহিনী ও পুলিশের পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য। এ ছাড়া রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচশ’র বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

রায় ঘোষণার আগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সব রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহর এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর থেকে অযোধ্যা শহরে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। ১০ নভেম্বর থেকে এই শহরে জারি হচ্ছে কারফিউ। এই সান্ধ্য আইন অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণার পর চার দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অযোধ্যার নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় চার হাজার আধা সেনা। উত্তর প্রদেশের ধর্মীয় জায়গাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ