কী আলাপ হলো, জানা গেল না

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:২৬, ডিসেম্বর ০২, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫২, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫

suu kyi-3333নিজ দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে দেশটির বিদায়ী প্রেসিডেন্টের আশ্বাসের পর এবার সামরিক কমান্ডার জেনারেল মিং অং হিলিয়াং-এর সঙ্গেও বৈঠক করলেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি। তবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ব্যাপারে সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতার সংশোধনী চেয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ও সেনা কমান্ডারের সঙ্গে সুচি আলোচনা করবেন বলে দিনভর গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি নিশ্চিত করেছে।
বুধবার বিকেলে সেনা কমান্ডার জেনারেল মিং অং হ্লিয়াং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন সু চি। সংবিধানে সংশোধনী আনার ব্যাপারে সামরিক কমান্ডারের কাছে সু চি সহায়তা চাইবেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। আল জাজিরাকে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতকারে বৈঠকটির ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন এনএলডি’র একজন সদস্য ইয়ে মিন ও। তবে আরও বেশি রাজনৈতিক গুঞ্জন এড়ানোর কথা বলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের তরফে দেয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও বৈঠকের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে বুধবার সকালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে বৈঠক করেন সু চি। নভেম্বরের নির্বাচনে নিজ দলের নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক তিনি। ৪৫ মিনিট ধরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইয়ে হটুট।
বৈঠকের পর হটুট জানান, ‘ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট সম্মত’। ‘জনগণ যেন উদ্বিগ্ন না হয়, এমনভাবে ভবিষ্যতের সরকারের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা’। জানান প্রেসিডেন্টের ওই মুখপাত্র।
সু চির দল এনডিএ এ বছর নভেম্বরের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে সংসদের উচ্চ এবং নিম্নকক্ষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বেশিরভাগ আঞ্চলিক আসনেও জয় পায় দলটি।
তবে সবমিলে দেশের জনগণ একটি বড় ধরনের পরিবর্তন প্রত্যাশা করলেও সামরিক বাহিনীর সহায়তা ছাড়া সু চির পক্ষে তেমন কিছু করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন ইয়াঙ্গুনভিত্তিক একজন রাজনীতি বিশ্লেষক থেইন ইয়ান।

কারণ হিসেবে আল জাজিরাকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন,  সংসদের ২৫ শতাংশ আসন, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়-সহ গুরুত্বপূর্ণ সব আঞ্চলিক সরকারের সব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সামরিক বাহিনীর দখলে।

বিদেশি নাগরিক বিয়ে করার অজুহাতে বর্তমান সংবিধানের সংশোধনীতে সু চির প্রেসিডেন্ট হবারও সুযোগ রহিত করা হয়েছে।

যদিও তার দলের কারও কারও মত, প্রয়োজনে সংবিধান স্থগিতের মধ্যে দিয়ে হলেও সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়া উচিত।

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ