Vision  ad on bangla Tribune

যে কারণে ইইউবিরোধী রক্ষণশীলদের তোপের মুখে ক্যামেরন

ফাহমিদা উর্ণি২০:১২, ডিসেম্বর ২০, ২০১৫

Cameronইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ ধরে রাখতে জোটটির সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসায় বিরোধীদের পাশাপাশি নিজ দলের ইইউবিরোধী নেতাদেরই তোপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ইইউ’র সঙ্গে ক্যামেরনের আবারও আলোচনায় বসাকে ধোঁকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইইউবিরোধী রক্ষণশীলরা (ব্রিটিশ টোরি ইউরোস্কেপটিক)। তাদের দাবি, আগামি বছর থেকে চালু হতে যাওয়া ‘নতুন জাতীয় মজুরি’র পরিকল্পনা ক্যামেরনের অভিবাসী কমানোর পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিবাসী ভাতাজনিত সংস্কার পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়ে ব্রিটিশ জনগণের উদ্বেগ দূর করতে ইইউ নেতাদের প্রতি ক্যামেরনের আহ্বানের দুদিন পরই এমন প্রতিক্রিয়া জানালো টোরি ইউরোস্কেপটিকরা।

ইউরোপীয় ই্উনিয়নে যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে সামনে রেখে আগে থেকেই চলছে 'ভোট লিভ' এবং 'কনজারভেটিভস ফর ব্রিটেন' নামে আলাদা দুটি ক্যাম্পেইন। 'ভোট লিভ' ক্যাম্পেইনটি চালাচ্ছে যুক্তরাজ্যের স্বাধীন ধারার বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আর 'কনজারভেটিভস ফর ব্রিটেন' ক্যাম্পেইনটি চালাচ্ছেন ইইউবিরোধী টোরি রক্ষণশীল নেতারা, যারা ক্যামেরনের দলেরই লোক।

ক্যাম্পেইনগুলোতে বলা হচ্ছে ক্যামেরন চার বছরের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসীদের সুবিধা ভাতা বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও জুলাইয়ের বাজেটে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণার কারণে এখনও যুক্তরাজ্যের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে অভিবাসীরা।

 

শুক্রবার ইইউতে যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকার প্রশ্নে জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে ক্যামেরনের ঘোষণা দেওয়ার পর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইইউবিরোধী রক্ষণশীলরা। প্রতিক্রিয়ায়, উইকোম্বের টোরি এমপি এবং কনজারভেটিভস ফর ব্রিটেনের সহ-সভাপতি স্টিভ বেকার বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যদি অভিবাসী সুবিধা ভাতা নিয়ে একটি চুক্তিও করেন তাতেও বিপুল সংখ্যায় অভিবাসী প্রবেশের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না।’

 


তার আশঙ্কা, ন্যুনতম মজুরি বাড়ানোর কারণে ইইউভুক্ত দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ আরও বেশি যুক্তরাজ্যমুখী হয়ে পড়বে। কনজারভেটিভস ফর ব্রিটেন ক্যাম্পেইনের অন্য সদস্যরা হলেন, সাবেক টোরি চ্যান্সেলর লর্ড লসন, সাবেক টোরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিয়াম ফক্স এবং কনজারভেটিভ ফর ন্যাশনাল কনভেনশনের প্রেসিডেন্ট স্টিভ বেল। ভোট লিভ নামের ক্যাম্পেইনারদের সঙ্গে কনজারভেটিভস ফর ব্রিটেন জোটবদ্ধ হতে পারে বলে গুঞ্জন চলছে।

এদিকে ভোট লিভের দাবি, ক্যামেরন সরকারের তরফে যে নতুন ন্যূনতম মজুরি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে তাতে পূর্ব ইউরোপীয় নাগরিকরা তাদের দেশের চেয়ে যুক্তরাজ্যে কয়েকগুণ বেশি মজুরি পাবে। তাদের হিসেব অনুযায়ী, সুবিধা ভাতায় সংস্কার আনার পরও একজন বুলগেরিয়ান নাগরিক যুক্তরাজ্যে নিজের দেশের চেয়ে ৩৭৭ শতাংশ বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন। আর সুবিধা ভাতায় সংস্কার না আনা হলে একজন বুলগেরিয়ান নাগরিক পাবেন ৪৮৩ শতাংশ বেশি সুবিধা। আর সেকারণে, যুক্তরাজ্য অভিবাসীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণের স্থান হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে ভোট লিভ।

 

UK Immigrant 2

 

তবে ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইইউভুক্ত অনেক দেশেই মজুরি বাড়ানো আছে, সুতরাং সুবিধা ভাতা বন্ধ করে দিলে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যমুখী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আধিক্য নিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তি রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবেশ করতে পারে। আর সেকারণে গত মেয়াদে ক্যামেরন সরকার ইইউর বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও ইইউভুক্ত নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে পারেনি।  নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবারের মেয়াদে ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে আগমন নিরুৎসাহিত করতে চার বছরের জন্য সুবিধা ভাতা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন ক্যামেরন। তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ইইউভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। তাদের দাবি, সদস্য দেশের নাগরিকদের সুবিধা ভাতা প্রদানে বৈষম্য করা হলে তা হবে ইইউর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক।

 

আর তা নিয়ে যুক্তরাজ্যকে ইইউতে রাখা না রাখার ব্যাপারে প্রশ্ন তৈরি হয়। এমন অবস্থায় ইইউভুক্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিবাসীদের সুবিধা সীমিত করাসহ চারটি সংস্কার প্রস্তাব দেন ক্যামেরন। কিন্তু ইইউতে থাকার প্রশ্নে ক্যামেরনের এ উদ্যোগকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না খোদ কনজারভেটিভদের অনেকে।  

তবে লেবার পার্টি শুরু থেকেই ইইউ তে থাকার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।  লিবারেল ডেমোক্র্যাটস (লিবডেম), এসএনপি এবং গ্রিন পার্টিও চায় যুক্তরাজ্য ইইউতে থাকুক। অপর পক্ষে ইউকিপ যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকার ঘোরতর বিরোধী।  সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

/এফইউ/বিএ

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ