behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

কুমারিত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই মিলবে বৃত্তি !

বিদেশ ডেস্ক২৩:২১, জানুয়ারি ২৭, ২০১৬

দক্ষিণ আফ্রিকার খাজুলু-নাটাল প্রদেশের গ্রামীণ এলাকার ১৮ বছরের মেয়ে থুবেলিল। শিগগিরই সে দেশটির রাজধানী প্রিটোরিয়াতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার জন্য বাসে চড়বে। বন্ধুরা তাকে থুবে হিসেবেই ডাকে। বন্ধুরা জানিয়েছে, থুবের পরিবারের সামর্থ্য নেই যে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবে। কিন্তু স্থানীয় সরকারের একটি বৃত্তি নিয়ে সে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে। বৃত্তিটি দিচ্ছে প্রদেশটি ইউথুকেলা নগর কর্তৃপক্ষ।  তবে এ বৃত্তির প্রধান শর্ত হচ্ছে, থুবেকে অবশ্যই কুমারী হতে হবে।

এ বিষয়ে থুবে বলেন, আমরা নিজেদের ছেলেদের কাছ থেকে দূরে রাখি। কারণ আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। আমার কোনও সন্তান নেই। বয়স ১৮। নিজেকে বদলাতে ও বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাল মেলাতে হলে আমাকে অবশ্যই কঠোর পড়াশোনা করতে হবে।’

থুবে আরও বলেন, ‘কুমারী থাকার সুযোগ মাত্র একটাই।’

তথাকথিত কুমারী বৃত্তি পেতে থুবেকে প্রত্যেক ছুটিতে কুমারিত্ব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সমাজের একজন বয়স্ক নারী পরীক্ষা করে দেখবেন থুবের কুমারিত্ব বহাল আছে কিনা।

কুমারিত্ব বৃত্তির খবর প্রকাশ হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন সংগঠন এর সমালোচনা করেছে এবং শুরু হয়েছে এটা নিয়ে বিতর্ক।

কমিশন অন জেন্ডার অ্যান্ড ইক্যুয়ালিটির জাবু বালই জানান, এ বৃত্তিটি ছকে বাধা পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে। যোগ্যতা নয়, কুমারিত্ব থাকলেই এই বৃত্তি পাওয়া যাবে। শিক্ষার আরও অনেক উন্নত পদ্ধতি আছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বিরোধীদল দেশটির মানবাধিকার কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। অনেক সংগঠন এ বৃত্তিকে অসাংবিধানিক বলছে।

বিরোধীতা ও সমালোচনা মুখেও শহরটির মেয়র দুদু মাজিবুকু এ বৃত্তির পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা ১৬ বছর বয়সী কিশোরী শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে তাদেরকে কুমারীত্ব বজায় রাখতে হবে। অল্প বয়স্ক তরুণীদের মধ্যে  এইচআইভি, এইডস এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ কমানোর জন্য আমরা এই স্কিম চালু করেছি। যারা এ বৃত্তি গ্রহণ করবে তাদেরকে নিয়মিত কুমারিত্ব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

মেয়র জানান, স্কুলে কিশোর বয়সে গর্ভধারণ কমাতে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনও কাজে আসেনি।  তিনি বলেন, আমি দেখছি সবাই সমালোচনা করছেন কিন্তু কেউই সমাধান হাজির করছেন না।

২০১২ সালের তথ্য অনুসারে দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে খাজুলু-নাটাল প্রদেশে কিশোর বয়সে গর্ভধারণের হার সবচেয়ে বেশি। ওই বছর ১৫-১৯ বছরের মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছে ২৬ হাজার শিশু।

মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে, ইউথুকেলা জেলায় এইচআইভি/এইডসের হারও বাড়ছে। প্রায় অর্ধেক প্রসূতি মায়ের এ রোগ রয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ছয় মিলিয়নেরও বেশি লোক এইচআইভি আক্রান্ত। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ।

মেয়র বলেন, কিশোর বয়সের তরুনীরা দুর্বল থাকে। বয়স্ক মানুষের সঙ্গে সঙ্গম তারা এড়াতে পারে না। এমনকি তাদের চেয়ে বয়স্ক লোককে কনডম ব্যবহারের নির্দেশও দিতে পারে না। যৌন মিলনের জন্য তারা প্রস্তুত নয়।

থুবে জানায়, তার স্কুলের অনেক বন্ধু বয়স্ক লোকের সঙ্গে যৌন মিলন করে। বিনিময়ে তারা টাকা, উপহার ও অন্যান্য সুবিধা পায়।

দেশটিতে যেসব ছাত্রী স্কুলে থাকা অবস্থাতেই গর্ভধারণ করে ফেলে তাদেরকে শিক্ষা শেষ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই ঝরে পড়ে ও ফিরে না।

মেয়র জানান, কুমারিত্বের জন্য বৃত্তি দেওয়ার ধারণাটা এসেছে ছাত্রীদের কাছ থেকেই। তিনি বলেন, আমরা কুমারী তৈরি করছি না, ইতোমধ্যেই তারা সংঘবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে।

থুবে মনে করেন, কুমারী থাকা তার জন্য নিরাপদ থাকার একটি উপায়। তিনি বলেন, এটা আমার পছন্দ। সূত্র: সিএনএন।

/এএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ