তুরস্ক উপকূলে ভেসে এলো আরেক আয়লান (ভিডিও)

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৪৫, জানুয়ারি ৩১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫২, জানুয়ারি ৩১, ২০১৬

বিশ্বের কেউই হয়ত ভাবেননি এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি আবার হতে হবে। তুরস্কের এক পুলিশ ছোট্ট, হালকা-পাতলা একটি শিশুর নিথর দেহ সৈকত থেকে দু’হাতে তুললেন। যত্নের সঙ্গে তা একটি লাশ রাখার ব্যাগে রাখলেন। যেনও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। এ ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় গত বছর সেপ্টেম্বরে তুরস্ক উপকূলে ভেসে ওঠা আয়লান কুর্দির কথা। যে ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। উঠেছিল শরণার্থী গ্রহণে রাজি না হওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়।

শনিবার তুরস্ক উপকূলে ভেসে ওঠে এক শিশুর মৃতদেহ। যা মনে করিয়ে দেয় আয়লানের কথা

২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে তুরস্কের উপকূলে সন্ধান মেলে আয়লান নামের এক সিরীয় শিশুর মৃতদেহ। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে নিথর পড়ে থাকা শিশু আয়লান কুর্দির নাম শুনলে এখনও স্তব্ধ হয়ে যান অনেকে। ছোট নৌকায় থাকা আয়লান ও তার ভাই ভেসে যায় তুরস্কের সৈকতে। তাদের মা ভেসে যান দূরের অন্য এক সৈকতে।

উপকূলে ভেসে ওঠা শিশুর মৃতদেহ ব্যাগে রাখছেন এক পুলিশ

আয়লানের মৃত্যুর চার মাস পর আবারও একই ধরনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করলো বিশ্ব। শনিবার তুরস্ক থেকে ইউরোপ পাড়ি জমাতে সমুদ্রে সলিল সমাধি ঘটলো আরও ৩৯ প্রাণের। নিথর-প্রাণহীন দেহগুলো ভেসে ওঠলো তুরস্কের উপকূলে। সঙ্গে ছিল কয়েকটি শিশুর লাশ। ছিল আয়লানের মতোই সৈকতে পড়ে থাকা ওই শিশুর দেহ। যা পুলিশ সদস্য ট্যাগ লাগানো লাশের ব্যাগে রেখেছেন।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগের কথা। শিশুটি ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে জ্যাকেট পরেছে। তুরস্কের মূল ভূখণ্ড থেকে ১২০ শরণার্থীর সঙ্গে গ্রিসের লেসবস দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের জন্য এই সমুদ্র পথটি ব্যাপক ব্যবহৃত হচ্ছে।

শনিবার তুরস্ক উপকূলে ভেসে ওঠে ৩৯ শরণার্থীর মৃতদেহ

রাত্রির গাঢ় অন্ধকারেও শিশুসহ সবাই হয়ত ভেবেছিলেন মাত্র ৫ নটিক্যাল মাইল সমুদ্র পাড়ি দিতে হবে। বাহন হিসেবে আছে ৫৬ ফুটের একটি ইয়ট, ভয়ের কিছু নেই। তবু কয়েকজন যাত্রী পরেছিলেন লাইফজ্যাকেট।

কিন্তু কানাক্কালে প্রদেশের বেহরাম গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইয়টটি ধাক্কা খায় পাথরের সঙ্গে। পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ডুবতে থাকে ইয়টটি। যারা ইয়টের ডেকের ওপর ছিলেন তারা লাফিয়ে পড়েন পানিতে এবং সাঁতার কেটে তীরে ফিরে আসেন। কিন্তু যারা ডেকের নিচে অবস্থান করছিলেন তারা ইয়টে আটকে পড়েন।

শনিবার সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তুরস্ক উপকূলে আয়ভাসিক রিসোর্টের পাশে ভেসে ওঠে মৃতদেহগুলো। ভয়ার্ত স্থানীয়রা লাইফ জ্যাকেট দিয়ে লাশগুলো ঢেকে রাখে। মৃতদেহগুলোর মধ্যে আরেকটি শিশু ছিল। কিছু দূরে সৈকতে পড়েছিল একটু পুতুল ও পাতলা নীল রঙের হ্যাট। ইয়টটি ছিল তীর থেকে মাত্র ৫০ ইয়ার্ড দূরে।

উদ্ধারকারীরা ৬০ শরণার্থীকে পানিতে থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। অনেকেই হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। নৌকাডুবিতে বেঁচে যাওয়া শোকে কাতর এক শরণার্থী বলেন, আমাদের খুব খারাপ লাগছে। অন্তত ২০ জন বন্ধুর কোনও খোঁজ পাচ্ছি না।’

ইয়টটিতে যেসব শরণার্থী ছিলেন তাদের বেশিরভাগই সিরিয়া, আফগানিস্তান ও মায়ানমারের নাগরিক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তুরস্কের পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ব্যক্তিই সাগরপাড়ির এ ব্যবস্থা করেছিলেন। 

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুসারে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২৪৪ জন শরণার্থী ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টার সময় মারা গেছেন যা গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় প্রায় তিন গুণ। গত বছর জানুয়ারিতে মারা গিয়েছিলেন ৮২ জন। আর ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১২ জন।

মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে গত বছর প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী সাগরপাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছান।  তুরস্কে বর্তমানে ২২ লাখ সিরীয় নাগরিক শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন। সূত্র: মেইল অনলাইন।

/এএ/

লাইভ

টপ