লুলাকে গ্রেফতারের দাবি ব্রাজিলের প্রসিকিউটরদের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:৩২, মার্চ ১১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪, মার্চ ১১, ২০১৬

ব্রাজিলের প্রসিকিউটররা দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে গ্রেফতারের আবেদন জানিয়েছেন। তারা সাও পাউলো শহরে অর্থপাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লুলাকে ‘আইনী হেফাজতে’ নেওয়ার দাবি জানান।

প্রসিকিউটররা জানান, গুয়ারুজা রিসোর্টে ৩ তলাবিশিষ্ট পেন্টহাউজের মালিকানা প্রমাণে ব্যর্থ হন লুলা। তবে লুলা তার ওপর আরোপ করা সব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রসিকিউটররা বলেছেন, তিনি তদন্ত চলাকালে বাধা দিতে পারেন, তাই তাকে গ্রেফতার করা দরকার। প্রধান প্রসিকিউটর ক্যাসিও কনসেরিনো বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় তদন্ত প্রধানত পরিচালিত হবে ওই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা নির্ধারণের জন্য।’ তবে আদালত এখনও তার গ্রেফতারের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানননি।

লুলা দা সিলভা

লুলার আইনজীবী ক্রিস্টিনো জানিন মার্টিনস জানান, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ চলছে। তিনি বলেন, ‘যার নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, তিনিই ওই সম্পত্তির মালিক। এখানে কেউ এ নিয়ে অন্য কিছু মনে করলে কিছু যায় আসে না।’ তিনি আরও জানান, লুলা ওই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন, অসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্টেও গিয়েছেনও। কিন্তু পরে সম্পত্তিটি না নিয়ে অর্থ ফেরত চেয়েছিলেন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটররা জানান, সিলভা আর তার স্ত্রীসহ অন্তত ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। ওই তালিকায় সিলভার ছেলের নামও রয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার লুলা দা সিলভাকে দুর্নীতির দায়ে আটক করা হয়। পেট্রোব্রাস’র বিশাল অঙ্কের ঘুষ কেলেঙ্কারির তদন্ত করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী শুক্রবার সিলভাকে আটক করে।

ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ কর্মকর্তারা সাবেক প্রেসিডেন্টের বাসভবন তল্লাশি শেষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। ব্রাজিলে গত কয়েক বছর ধরে পেট্রোব্রাসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা তেল কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেছেন।

ব্রাজিলের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা লুলা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শেষে ২০১১ সালে নিজ দলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দিলমা রৌসেফ-এর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তার শাসনামলে দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় এবং লাখ লাখ মানুষ দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্তি পান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোব্রাস দুর্নীতিতে তার জড়িত থাকার গুঞ্জন ওঠার পর লুলার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। তবে লুলা এবং তার সমর্থকরা এসব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: বিবিসি  

/এসএ/

লাইভ

টপ