behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতি৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে নিয়ে যান দুই চীনা নাগরিক!

বিদেশ ডেস্ক১৬:৫৮, মার্চ ২৯, ২০১৬

সিনেট শুনানিতে কিম অংদুই চীনা নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন অর্থ অনলাইনের মাধ্যমে চুরি করে ফিলিপাইনে পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন চীনা ব্যবসায়ী কিম অং। মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেট তদন্তদলের শুনানি চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অং সিনেট শুনানিতে প্রথমে ওই দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও পরে তিনি দুই চীনা নাগরিকের কথা স্বীকার করেন। তারা হলেন – সুহুয়া গাও এবং ডিং ঝিজে। অং তাদের পাসপোর্ট সহ নাম একটি বদ্ধ খামে জমা দেবেন বলে উল্লেখ করেন। এর আগে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, ভুয়া প্রমাণাদি ব্যবহার করে ওই অর্থ দেশে নিয়ে আসার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নাই। ওই ৮১ মিলিয়ন ডলার কোথা থেকে এসেছে, তা আমি জানি না। দ্বিতীয়ত, দুই বিদেশি নাগরিক ওই ৮১ মিলিয়ন ডলার দেশে নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে একজন ফিলিপাইনে এবং ফিলিপাইনের বাইরে ক্যাসিনো এজেন্টের কাজ করেন। তদন্তকারীদের সহযোগিতার জন্য আমি বন্ধ খামে তাদের নাম এবং পাসপোর্টের অনুলিপি সিনেট তদন্তদলের কাছে জমা দেব।’
অং দাবি করেন, গাও একজন ক্যাসিনো এজেন্ট এবং ডিং ম্যাকাও-এর একজন ব্যবসায়ী। অং আরও দাবি করেন, সোলেয়ার ক্যাসিনোতে বড় পরিমাণ অর্থ হারের পর গাও তার কাছ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন পেসো (ফিলিপাইনের মুদ্রা) ধার নিয়েছিলেন। সে সময়েই তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য গাওকে দিগুইতোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। অং বলেছেন যে, গাও এবং তিনি গত বছরের মে-তে মাইডাস হোটেলে দিগুইতোর সঙ্গে দেখা করেন।
অং জানান, দুই-তিন দিন পর দিগুইতো তাকে ফোন করে পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আড়াই হাজার ডলার দিতে বলেছিলেন। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি গাও অং-কে জানিয়েছিলেন, তিনি এবং ডিং ম্যাকাও-এর ক্যাসিনো বন্ধ করে ম্যানিলায় বিনিয়োগ করবেন।

৫ ফেব্রুয়ারি গাও এবং ডিং-এর সাথে দেখা করলে তারা অং-কে অনুরোধ করেন, আরসিবিসি ম্যানেজার দিগুইতোকে ফোন করে তাদের ৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক করার জন্য। বেশ কয়েকবার ফোন করার পর দিগুইতো তাকে ফোন করে নিশ্চিত করেন যে, ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে ৮১ মিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে। তখন অং দিগুইতোকে ওই অর্থ হোটেলে পাঠাতে বলেন। উল্লেখ্য, সিনেট কমিটির শুনানিতে ওই চার অ্যাকাউন্টের মালিককে তলবের জন্য নাম-ঠিকানা খুঁজলে দেখা যায় সেগুলো ভুয়া।

সিনেট শুনানিতে মাইয়া সান্তোস দিগুইতো

সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে দিগুইতোর অনুরোধে ফিলরেমের মাইকেল বাউতিস্তা ৮০ মিলিয়ন পেসো নিয়ে হোটেলে পৌঁছান। বাকি ২০ মিলিয়ন পেসো নিয়ে দিগুইতো নিজেই উপস্থিত হন।

অং জানান, নগদ ১০০ মিলিয়ন পেসো ছাড়াও তিনি বাউতিস্তার বাড়ি থেকে ৩০০ মিলিয়ন পেসো এবং ৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি সংগ্রহ করেন ১০০ মিলিয়ন পেসো ও ৩ মিলিয়ন ডলার, ১০ ফেব্রুয়ারি ১০০ মিলিয়ন পেসো ও ২ মিলিয়ন ডলার এবং আরও ১০০ মিলিয়ন পেসো সংগ্রহ করেন ১৪ ফেব্রুয়ারি।   

কিম অং রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার ব্রাঞ্চের ম্যানেজার মাইয়া সান্তোস দিগুইতোকে ওই অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মাইয়াই সেই ব্যক্তি, যিনি ব্যাংক থেকে সব অর্থ তুলে দেন।’

তিনি আরও জানান, ওই ৮১ মিলিয়ন ডলার থেকে মাইডাস এবং সোলেয়ার ক্যাসিনোতে পাঠানো হয় ৬৩ মিলিয়ন ডলার। অং বলেছেন, ‘প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় ফিলরেমের কাছে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই চীনা নাগরিককে আটক করা গেলে আন্তর্জাতিক অর্থপাচার চক্রের মূলহোতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। সূত্র: ইনকোয়ারার। 

/এসএ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ