behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

'ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার কাতার বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকরা'

বিদেশ ডেস্ক১৪:০৫, মার্চ ৩১, ২০১৬

ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের বিশ্বকাপ মানেই জমকালো আয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে এই আয়োজন সম্পন্ন হয় যে শ্রমিকদের হাত ধরে, প্রায় প্রতিবারই বিশ্বকাপের রমরমার আড়ালেই চাপা পড়ে যায় সেইসব শ্রমিকের বঞ্চনার আখ্যান। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য স্টেডিয়াম নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকরাও বাধ্যতামূলক শ্রমসহ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মানবাধিকার লঙ্ঘন রুখতে ফিফা ব্যর্থ বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। অভিযোগের ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে কাতার।

কাতারের স্টেডিয়ামে নিয়োজিত এক শ্রমিক

২০২২ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসাবে খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম তৈরি করছে কাতার। নিয়োজিত ২৩১ জন শ্রমিকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে অ্যামনেস্টি। এক প্রতিবেদনে কাতারের নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামে শ্রমিকদের নির্যাতিত হওয়ার খবর তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই শ্রমিকদের খুবই সংকীর্ণ জায়গায় থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে, পাসপোর্ট ও মজুরি আটকে রাখা হচ্ছে। 

এসব শ্রমিকরে বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা অভিবাসী। এর মধ্যে ১৩২ জন স্টেডিয়ামের ভেতরে কাজ করছেন আর ৯৯ জন আশেপাশের ক্রীড়া প্রাঙ্গণে নিয়োজিত রয়েছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা কাজ ছেড়ে দিতে চাইলে বেতন না দেওয়া, পুলিশে হস্তান্তর করা ও কাতার ছাড়তে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অ্যামনেস্টি বলছে, যেসব শ্রমিকরা কাজ করছে, তাদের খুবই সংকীর্ণ জায়গায় থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে, পাসপোর্ট ও মজুরী আটকে রাখা হচ্ছে। কিন্তু এই কাজ পেতে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনেক টাকা দিতে হয়েছে শ্রমিকদের। এই শ্রমিকদের পাসপোর্ট আটকে রেখে দেশ ত্যাগ করতে দেওয়া হয় না। এমনকি অভিযোগ তুললে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে দেয়া হয়।

কাতারের স্টেডিয়ামে কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক

অ্যামনেস্টি জানায়, যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তাদের কেউ কেউ একই অভিযোগ করেছে আবার কেউ আলাদা অভিযোগ করেছেন। শ্রমিকরা জানান, নিজেদের দেশ থেকে কাতারে চাকরি পাওয়ার জন্য নিয়োগকারীদের ৪,৩০০ ডলার (৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা) পর্যন্ত ফি দিতে হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়নি। অনেকসময়ই যে পরিমাণ বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তার অর্ধেক পরিশোধ করা হয়। আর এ ব্যাপারে অভিযোগ করতে চাইলে নানা হুমকিধামকির শিকার হতে হয় বলে দাবি করেন শ্রমিকরা।

নেপালের এক শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন, তার জীবন কারাগারের মতো হয়ে গেছে। নেপালি শ্রমিকদের অনেকেই অ্যামনেস্টির কাছে অভিযোগ করেন যে, তাদের দেশে গত বছরের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর স্বজনদের দেখতে যেতে দেওয়া হয়নি।

ব্রাজিল বিশ্বকাপের সময়কার গ্রাফিতি

এর আগেও কাতারের শ্রম নিপীড়ন নিয়ে অভিযোগ তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কিন্তু এবারই প্রথম বিশ্বকাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাজের শ্রমব্যবস্থা নিয়ে তারা অভিযোগ তুলল। কাতার বলছে, তারা এসব অভিযোগে উদ্বিগ্ন এবং এগুলো খতিয়ে দেখবে।

কাতারের সরকার বলছে, অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণের বিষয়টি তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা যে নতুন শ্রম আইন করছে, তা শ্রমিকদের কল্যাণে কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছর কাতার সরকারের তরফে অঙ্গীকার করা হয় যে ‘কাফালা’ স্পনসরশিপ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে। ‘কাফালা’ ব্যবস্থার আওতায় শ্রমিকরা মালিকের অনুমতি ছাড়া চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন না এবং দেশে ফিরতে পারেন না। তবে অ্যামনেস্টি বলছে, সংস্কার প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলেও তা খুব একটা কাজে লাগবে না।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কাতারের স্টেডিয়াম

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সলিল শেঠি বলেন, ‘সকল শ্রমিকই তাদের অধিকারের সুরক্ষা চান। নিয়মিত বেতন পরিশোধ হোক তা চান, প্রয়োজনে দেশ ছাড়ার সুযোগ চান এবং মর্যাদা পেতে চান।’

টুর্নামেন্ট আয়োজনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা বন্ধ করতে ফিফার বিরুদ্ধেও ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বিশ্বকাপের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জীবন মান ফিফার নিজের তদারকি করা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ