বিমানে কানহাইয়ার গলা চেপে ধরলেন ‘মোদির সমর্থক’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৫৩, এপ্রিল ২৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৯, এপ্রিল ২৪, ২০১৬

কানহাইয়া এবং শেহলাবিমানযোগে মুম্বাই থেকে পুনে ফেরার সময় জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট কানহাইয়ার গলা চেপে ধরেন এক সহযাত্রী। বন্ধুদের সহায়তায় কানহাইয়া মুক্ত হলেও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাদের বিমান থেকে নামিয়ে দেন। কানহাইয়া ওই হামলাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছেন বলে জানা গেছে। টুইটারে কানহাইয়া ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের বিভিন্নস্থানে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মনীতির তীব্র সমালোচনা করেন অনলবর্ষী কানহাইয়া এবং তার বন্ধুরা। ধারণা করা হচ্ছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়েই ওই অভিযুক্ত সহযাত্রী কানহাইয়ার গলা চেপে ধরেন।
আরও পড়ুন: ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হলো শিশু
কানহাইয়ার বন্ধু নিশান্ত ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াইরকে পুরো বিষয়টির বর্ণনা দেন। তিনি জানান, মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠান যোগদানের পর রবিবার (২৪ এপ্রিল) জেট এয়ারওয়েজের একটি বিমানে করে তারা পুনে যাচ্ছিলেন। বিমানটি রানওয়েতে দাঁড়ানো অবস্থায় কানহাইয়ার পাশে বসা এক যাত্রী মোবাইলে ফোনে বলছিলেন, ‘সুযোগ পেলেই আমি ব্যবস্থা নেবো।’ এরপর হঠাৎ করেই ওই ব্যক্তি এক হাত দিয়ে কানহাইয়ার গলা চেপে ধরেন। কানহাইয়া তার হাত সরানোর চেষ্টা করলে অপর হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি পড়ে যায়। এরপর তিনি দুই হাতে কানহাইয়ার গলা চেপে ধরেন।
নিশান্ত বলেন, ‘কানহাইয়ার গলা চেপে ধরার পরই কি হচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারলাম। আমরা তাকে ওখানে থেকে সরিয়ে দিই। এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা এসে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমাদেরও বিমান থেকে নামিয়ে দেন, যেন আমরা নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটিয়েছি।’

আরও পড়ুন: মার্কিন জোটের বিমান হামলায় চারমাসে নিহত মাত্র ২০ বেসামরিক ব্যক্তি!
অমিত জানিকানহাইয়া এবং তার সফরসঙ্গীরা ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করেছেন। ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মানস ডেকা, তিনি টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসে কাজ করেন। মানস নিজেকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একনিষ্ঠ ভক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। টুইটারের মাধ্যমে কানহাইয়া ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কানহাইয়ার ওপর হামলা এবারই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে কথিত দেশদ্রোহী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ১২ ফেব্রুয়ারি কানহাইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানির জন্য তাকে আদালতে নেওয়া হলে আদালত প্রাঙ্গনেই তার ওপর হামলা করে আইনজীবীদের একাংশ। ২ মার্চ তাদের ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়। ১০ মার্চ জেএনইউ ক্যাম্পাসে এক বহিরাগত ব্যক্তি হাতে চড় মারেন। ১৪ এপ্রিল নাগপুরে তার দিকে জুতা ছুড়ে মারা হয়।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রাবি শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর
অমিত জানি নামক এক বিজেপি নেতা কানহাইয়া এবং উমর খালিদকে বেশ কয়েকবার হত্যার ঘোষণা দেন। বিজেপি-র এক যুবনেতা কানহাইয়ার জিভ কেটে ফেলার জন্য ৫ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। একই সময়ে অপর একটি হুমকিতে তাকে হত্যার জন্য ১২ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সূত্র: দ্য ওয়াইর।
/এসএ/বিএ/

লাইভ

টপ