কানাডায় মারিয়া নূরের কয়েকদিন

Send
জনি হক
প্রকাশিত : ২৩:১৭, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০২, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

পাহাড়-পর্বত, জলপ্রপাতসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি দেশ কানাডা। বিশ্বের যেকোনও শহরের তুলনায় সেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ও বাতাসে দূষণ অনেক কম। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য পর্যটক সেখানে বেড়াতে যান। বাংলাদেশের মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপিকা মারিয়া নূরও বেড়িয়ে এলেন কানাডায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন তিনি।

কানাডায় পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় শহরগুলোর অন্যতম পাহাড়ে ঘেরা ভ্যানকুভার। মারিয়া দারুণ উপভোগ করেছেন এর সৌন্দর্য। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত এটি। ব্রিটিশ নাবিক ও ক্যাপ্টেন জর্জ ভ্যানক্যুভারের নামে শহরটির নামকরণ হয়েছে। কানাডার সর্ববৃহৎ বন্দর সেখানেই অবস্থিত।

ভ্যানক্যুভারে অবস্থিত ক্যাপিলানো সাসপেনশন ব্রিজ পার্কে সবুজের সমারোহ এককথায় মুগ্ধকর। প্রতি বছর ৮ লাখ পর্যটক সেখানে বেড়িয়ে আসে। এর দৈর্ঘ্য ৪৬০ ফুট। ক্যাপিলানো নদী থেকে সেতুর উচ্চতা ২৩০ ফুট। ১৮৮৯ সালে স্থাপিত হয় এটি। মারিয়ার অভিজ্ঞতা বলছে, এই ঝুলন্ত সেতুতে গেলে সবার মধ্যে ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়! তার কথায়, ‘সরলতাই প্রকৃতির আনন্দ। প্রকৃতির কোনও কৃত্রিমতা নেই।’
ক্যাপিলানো সাসপেনশন ব্রিজ পার্কে তোলা এই ছবির স্ট্যাটাসে মারিয়া লিখেছেন, ‘স্বাধীনতাবিহীন জীবন হলো প্রাণহীন শরীর।’

ভ্যানক্যুভারের বিশেষ আকর্ষণ ভিক্টোরিয়া শহর। সেখানেও অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু বেড়াতে যায়। এটি ‘গার্ডেন সিটি’ নামেও পরিচিত।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের প্রাণকেন্দ্র ভিক্টোরিয়া। ঘুরে বেড়ানো নিয়ে মারিয়ার কথা, ‘বাঁচার মতো বাঁচো।’

 
 
 
View this post on Instagram

A post shared by Maria Nur (@marianur_official) on Jan 1, 2019 at 4:50pm PST


ভ্যানক্যুভারে ইংলিশ বে সৈকত সূর্যস্নান, সাঁতার ও সূর্যাস্ত উপভোগের জন্য পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। শীতকালে এই সৈকতে ভ্রমণপ্রেমীদের সমাগম থাকে চোখে পড়ার মতো।


ইংলিশ বে’তে নিজেকে আরণ্যক ও মুক্ত তারুণ্য হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন বলে মারিয়ার অনুভূতি।

পার্লামেন্ট অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ঘুরে দেখেছেন মারিয়া। এটি হলো ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার আইন পরিষদ, আমরা যাকে বলি সংসদ ভবন। এখানে আসা দর্শনার্থীরা ভবনটির নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ হয়।

ভিক্টোরিয়া থেকে বিসি ফেরিতে চড়ে ভ্যানক্যুভারে ভ্রমণ করেছেন মারিয়া। চুল ছুঁয়ে যাওয়া হাওয়া আর চোখে রোদ্দুর ও অফুরান দিগন্ত ছিল তার কাছে বেশ উপভোগ্য।

* কানাডা ভ্রমণে প্রথমবার আইস স্কেটিং করেছেন মারিয়া নূর।

 
 
 
View this post on Instagram

A post shared by Maria Nur (@marianur_official) on Jan 4, 2019 at 11:36am PST


ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের কেমলুপস শহরের সৌন্দর্য। সেখানে উত্তর ও দক্ষিণ থম্পসন নদী মিলেছে। এর উত্তর-পূর্বে সান পিকস রিসোর্টের হাইকিং ট্রেইল, বাইক পার্ক ও অসংখ্য স্কি রয়েছে। শহরের পূর্বে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে চিতাবাঘ ও ভালুকের বসবাস। নদীর পাশে আছে দুই হাজার বছরের পুরনো গ্রাম।

ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে কার না মন চায়! এদিক দিয়ে নিজেকে ভাগ্যবতী পরিব্রাজক মনে করেন মারিয়া। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সান পিকস রিসোর্ট গিয়ে তার উপলব্ধি, ‘মন যা চায় তা করা ভালো।’ 

গ্যাসটাউনে ইংরেজি নববর্ষকে বরণ করেছেন মারিয়া। এটি ভ্যানক্যুভারের প্রাচীন অংশ। শহরের প্রথম বিদেশি জন ডেটন গ্যাসিজ্যাকের নামানুসারে এর নামকরণ হয়। স্থানীয় কমিউনিটির চাপে সংরক্ষণের জন্য ১৯৭১ সালে প্রাদেশিক সরকার ঐতিহাসিক এলাকা ঘোষণা করে গ্যাসটাউনকে। পুরনো ভবন ভাঙার কাজও ভেস্তে দেওয়া হয়।

ভ্যানক্যুভারে ভ্যানডুজেন বোটানিক্যাল গার্ডেনে বড়দিন ও নতুন বছরে উৎসবের আলোয় রঙিন মারিয়া। তার কথায়, ‘পৃথিবী আমার সিংহাসন!’ স্থানীয় করাতি ও জনদরদি হুইটফোর্ড জুলিয়ান ভ্যানডুজেনের নামানুসারে এর নামকরণ হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৩০ আগস্ট এর ফটক উন্মুক্ত হয়। 

 
 
 
View this post on Instagram

☃️

A post shared by Maria Nur (@marianur_official) on Jan 3, 2019 at 9:29am PST


মারিয়ার কথায়, ‘আলো পথ দেখায়, তাই আলো ভালোবাসি। তবে আঁধারেও মানিয়ে নেবো, কারণ অন্ধকারেই তারা দেখি।’

/জেএইচ/চেক/এমওএফ/
টপ